×

স্বাস্থ্য

রাসেলস ভাইপার

চলতি বছরই মিলতে পারে দেশীয় প্রতিষেধক

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ০১:৪৬ পিএম

চলতি বছরই মিলতে পারে দেশীয় প্রতিষেধক

ছবি : সংগৃহীত

রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের কামড়ের ঝুঁকি নিয়ে দেশের একমাত্র ভেনম রিসার্চ সেন্টার নতুন তথ্য দিয়েছে। তারা বলছে এই সাপের কামড়ে মৃত্যুর চেয়ে সুস্থতার হার বেশি। ক্ষিপ্রগতিতে ছোবল দিলেও এটি মূলত অলস প্রকৃতির সাপ। দেশে এর পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনমও আছে। 

দেশীয় ব্যবস্থাপনায় তৈরি রাসেলস ভাইপারের প্রাণঘাতী বিষের প্রতিষেধক মিলতে পারে চলতি বছরের শেষের দিকে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থাপিত ভেনম রিসার্চ সেন্টারে এই নিয়ে গবেষণার কাজ শেষ হয়েছে ৬০ ভাগ। গবেষকদের আশা, এটি সফল হলে পরের ধাপে হবে সব প্রজাতির বিষধর সাপের আলাদা আলাদা প্রতিষেধক তৈরির কাজ। 

সম্পূর্ণভাবে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় এমন অ্যান্টিভেনম এখনো বাংলাদেশে নেই। তাই সাপে কাটা রোগীদের জন্য যে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়, তা ভারত থেকে আমদানি করা। তবে এটি বিভিন্ন প্রজাতির সাপে কাটার চিকিৎসায় বেশ কার্যকর হলেও ব্যতিক্রম সাম্প্রতিক আলোচিত রাসেলস ভাইপারের ক্ষেত্রে।

আরো পড়ুন : যে কারণে বিষধর রাসেলস ভাইপার মারবেন না

প্রতিবেশী দুই দেশের রাসেল'স ভাইপার বা চন্দ্রবোড়ার বিষের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকায় এদেশে তুলনামূলক কম কার্যকরী ভারতের প্রতিষেধক। তাই পরিপূর্ণ সুফল পেতে এ অঞ্চলের চন্দ্রবোড়ার বিষের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক তৈরির লক্ষ্যে নিরলস গবেষণা চলছে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থাপিত ভেনম রিসার্চ সেন্টারে। এটি দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির প্রথম কোনো প্রচেষ্টা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ভেনম রিসার্চ সেন্টারের সমন্বয়ক ও গবেষক ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, 'আমরা চেষ্টা করছি কীভাবে প্রতিটি জাতের বিষধর সাপের বিপরীতে আলাদা আলাদা অ্যান্টিভেনম তৈরি করা যায়। এখন যা ব্যবহার করা হচ্ছে তা কমন অ্যান্টিভেমন। সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিভেনম সাধারণ অ্যান্টিভেনমের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আমরা আশা করছি সরকার আমাদের সফলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   

গবেষকদের দাবি, এই প্রতিষেধকের জন্য তারা অ্যান্টিবডি তৈরি করছেন মুরগি ও ছাগলের ওপর। এরমধ্যে শেষ হয়েছে মুরগির অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ। তার কার্যকারিতা পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি চলছে ছাগলের অ্যান্টিবডি তৈরির কাজটিও। তাদের আশা, পুরোপুরি কাজ শেষ করে, বছরের শেষ নাগাদ মিলতে পারে সুফল।

২০১৮ সালের মার্চে শুরু এই ভেনম রিসার্চ সেন্টারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে রাসেলস ভাইপারসহ ১০ প্রজাতির সাড়ে তিনশ সাপ।

আরো পড়ুন : রাসেলস ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা 

এদিকে, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম আছে বলে দাবি করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি। এ সময় সাপে কামড় দিলে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘রাসেলস ভাইপার: ভয় বনাম ফ্যাক্ট’ শীর্ষক ওই সেমিনারে আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন। সোসাইটির অব মেডিসিনের সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. টিটু  মিঞার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের মহাসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ অনেকে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন নাই, রোগী মারা গেছে- দয়া করে এই ভুল তথ্য কেউ দেবেন না। ভুল তথ্য দিলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম বাংলাদেশের প্রত্যেক হাসপাতালে আছে।

টাইমলাইন: রাসেলস ভাইপার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App