×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

স্বাস্থ্য

যে সময়টা মোবাইল টাওয়ার নিষ্ক্রিয় রাখার প্রস্তাব দিলেন প্রাণ গোপাল

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১০:৩২ পিএম

যে সময়টা মোবাইল টাওয়ার নিষ্ক্রিয় রাখার প্রস্তাব দিলেন প্রাণ গোপাল

ফাইল ছবি

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে সব সময় প্রযুক্তির পক্ষে। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশের পক্ষে, স্মার্ট বাংলাদেশের পক্ষে কিন্তু আমাদের ডিজিটাল পদ্ধতি অর্থাৎ মোবাইল ফোন যেভাবে অপব্যবহার হচ্ছে আমার মনে হয় না আর বেশী দিন আমাদের এই প্রজন্ম প্রতিবন্ধী না হয়ে থাকতে পারবে। 

বিল গেটস নিজে বলেছেন উনি উনার সন্তানকে ১৬ বছরের আগে মোবাইল ফোন টাস করতে দেননি। মার্টিন কুপার এক বছর আগে বলেছেন, আমি যদি জানতাম যে একজন ব্যাক্তি, এই প্রজন্ম মোবাইল ফোনের সঙ্গে ৫/৬ ঘন্টা আঠা হয়ে লেগে থাকবে তাহলে এটা আবিস্কার করা আমার জন্য একটা নির্মম ভুল হয়েছে বলে আমি মনে করি। একই সঙ্গে বুকার প্রাইজ উইনার হাওয়ার্ড জ্যাকপসন বলেছেন, আগামী ২০ বছর পরে বিশ্বের জনসংখ্যা লেখাপড়ায় প্রতিবন্ধী হয়ে যাবে, তারা প্রযুক্তি চালাতে পাবে কিন্তু কম্পজিশন করতে পারবে না, কোনো কিছু শিখতে পারবে না। 

তাই প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফ্রিল্যান্সিং বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ ছাড়া অন্য সব জায়গায় মোবাইল টাওয়ারগুলোকে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রস্তাব করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

শনিবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

প্রাণ গোপাল বলেন, আমার রোগীর সংখ্যা যেভাবে হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে, ১০ বছর থেকে শুরু করে সবারই একটা কথা কানে শো শো করে, ভু ভু করে, কানে শুনি না, লেখাপড়ায় মন দিতে পারি না। তাহলে আমরা কোথায় চলে যাচ্ছি। এই জায়গা থেকে কোনো কিছু একটা আবিস্কার করা উচিত যা রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এই প্রযুক্তি থেকে আমাদের তরুণ সমাজ একটু দুরে থাকবে।   

আরো পড়ুন: ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে রুপান্তরিত হবে

তিনি বলেন, শিক্ষার বিষয়ে একশ বছরের কথা চিন্তার কোনো বিকল্প নেই। এই শিক্ষা পেতে হলে দরকার একটা সুস্থ্ জাতি। সেই জাতির জন্য প্রয়োজন মেডিকেশন। আমাদের এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে অনেকেই অনেক সমালোচনা করেন। তারপরেও কিন্তু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খুব কম যে উন্নতি লাভ করেছে তা আমি স্বীকার করবো না। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা এখনো অনেকটাই উন্নতির পর্যায়ে আছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায় এবং সেগুলো ডাক্তার ও ডাক্তারদের আবাসিক সমস্যা সমাধান না হলে কখনই সেটা দেয়া সম্ভব হবে না। বিদেশে ডাক্তাররা সর্বক্ষণ হাসপাতালে থাকেন, বাংলাদেশে আমরা সে ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারছি না কারণ আমরা অফিস মেইনটেইন করি। ডাক্তারি পেশা এমন একটা পেশা যেখানে অফিস মেইনটেইন করা সম্ভব না। ডাক্তারদের আবাসিক সুবিধা দেয়াটা সবচেয়ে অপরিহার্য্য বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

তিনি বলেন, অমর্ত্য সেনের ভাষায় যদি আমরা বলি, শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেটা থাকা উচিত সরকারি খাতে। এটাকে যদি বেসরকারি করা হয় তাহলে শিক্ষা এবং চিকিৎসার কোনো গুণগত মান থাকে না, তখন সেটা হয়ে যায় একটা পণ্য। র্দুভাগ্যবশত পৃথিবীর সব দেশেই শিক্ষা এবং চিকিৎসা পণ্য হয়ে গেছে। আপনার টাকা আছে আপনি চিকিৎসা পাবেন, আপনার টাকা নেই তো আপনি চিকিৎসা পাবেন না। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক যারা মধ্যম শ্রেণীর নীচে আছেন তাদের বেলায় কিন্তু দেখার মতো কেউ নেই। 

তিনি বলেন, আমরা এই বাজেটে কালো টাকা এবং সাদা টাকা নিয়ে কথা তুলেছি। অর্থাৎ অপ্রদর্শিত আয়, প্রদর্শিত আয় যেটা আমরা ট্যাক্স দিয়েছি। আমি একজন কর দাতা হিসেবে যখন ৩০ লাখ টাকার উপরে আমার আয় থাকে আমাকে ৩০ ভাগ কর দিতে হচ্ছে। কিন্তু যিনি টাকা দেখাননি গত বছর তিনি কিন্তু ১৫ ভাগ দিয়ে সে টাকাকে বৈধ করে অপ্রদর্শিত আয়কে প্রর্দশিত আয় বা বৈধ ট্যাক্স করে নিচ্ছেন। এতে করে সঠিক করদাতা যারা তারা কিন্তু কর দিতে অনিচ্ছা পোষণ করবে। আমরা কালো টাকা এবং সাদা টাকার কথা বলি কখনো কেউ গ্রে মানি অর্থাৎ ইনফরমাল ইকোনোমি যেটা আছে সেটাকে কোনো অবস্থাতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না সেই ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় কিছুই বলেননি। এই গ্রে মানিটা সেটাও কিন্তু আনট্যাক্স মানির চেয়েও আরো অনেক বেশী খারাপ অর্থাৎ অপ্রদর্শিত আয়ের চেয়েও খারাপ। সেটাকে যদি সঙ্কুচিত করা না যায় তাহলে মানিলন্ডারিং কোনো অবস্থাতেই স্থিমিত হবে না বা বন্ধ হবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App