সংরক্ষিত নারী আসনের দৌড়ে বিএনপির শতাধিক নেত্রী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ইতোমধ্যে শতাধিক নারী নেত্রী সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছে। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদে আসনপ্রাপ্তির আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পেতে পাবেন ৩৫টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেতে পাবে ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইসি সূত্র জানায়, সংসদ সচিবালয় তালিকা পাঠালেই তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং পরিকল্পনা রয়েছে ঈদের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দলটি। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, কারাবরণকারী, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ও তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। এছাড়া দেশের যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী জিততে পারেননি, সেসব এলাকার নারী নেত্রীদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শুধু সুপারিশ নয়, মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূল সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।
আলোচনায় যারা
সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির শতাধিক নারী নেত্রী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-মহিলা দলের সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু এবং বিএনপির পরজিত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
আলোচনায় থাকা উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকজন হলেন-ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। সংসদে বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে আরো রয়েছেন-কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং চিত্রনায়িকা মৌসুমী।
সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি' প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টু র বোন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে আলোচনায় আছেন।
এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিনও আলোচনায় রয়েছেন।
