যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সই, শুল্ক কমে ১৯ শতাংশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এতে আগের চেয়ে শুল্কহার ১ শতাংশ কমেছে। নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার পর এই শুল্ক চুক্তি হলো।
সোমবার রাতে এ বিষযে চুক্তি সই হওয়ার খবর দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
এতে বলা হয়, নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। এতে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি আড়াই হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশাধিকার দিয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৪০০টি মার্কিন পণ্যে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশাধিকার দিয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এই বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক ঐতিহাসিক নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। এতে বলা হয়, নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে এখন পারস্পরিক শুল্ক দিতে হবে ১৯ শতাংশ। এতে মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৩৪ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতিমধধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আশা, এ চুক্তিতে শুল্কহার খুব বেশি না কমলেও এর বাইরে দেশটির বাজারে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা পাবে বাংলাদেশি পণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।
বাড়তি এ শুল্ক আরোপের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে তা কমাতে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
চুক্তি সই শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “এই চুক্তি আমাদের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে একটি ঐতিহাসিক নতুন স্তরে নিয়ে গেল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে।”
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় ১ শতাংশ শুল্ক কমা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত সুতি ও সিনথেটিক তন্তু ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক সুবিধা দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উপদেষ্টা খলিলুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহার করে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিতে শূন্য পারস্পরিক শুল্ক তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত গতি সঞ্চার করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সার্বিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের আলোচক দলের ‘অসাধারণ প্রচেষ্টার’ কথা তুলে ধরন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তিটি সোমবার উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন পেয়েছে। উভয় পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন জারি হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ।
