বিদেশিদের আকৃষ্টে পিএসসি পরিবর্তন, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন দরপত্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান। ফাইল ছবি
সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানিকে ফেরাতে উৎপাদন বণ্টন চুক্তি বা পিএসসিতে পরিবর্তন এনে নতুন দরপত্র (বিডিং রাউন্ড) আহ্বান করেছে সরকার।
এর আগের দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি। তাই এবার নতুন উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তিতে (পিএসসি) বিদেশি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করতে কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম। এতে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহ বাড়তে পারে বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে ঘোষণা করা ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ এর আওতায় আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী কোম্পানির জন্য ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক উন্মুক্ত করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে নতুন পিএসসি ও বিডিং রাউন্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এদিনই ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড’ এর ঘোষণা দিয়ে ছয়টি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাই কমিশনের মাধ্যমেও তা প্রচার করা হচ্ছে।
দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে আগ্রহী কোম্পানিরা জমা দিতে পারবে। আগামী ৩০ নভেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। একই দিন দুপুর ২টায় দরপত্র খোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬’ এবং ‘বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ এর ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নতুন পিএসসির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নতুন পিএসসিতে কোম্পানির মুনাফা পুরোপুরি বিদেশে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। রাখা হয়নি ‘সিগনেচার বোনাস বা রয়্যালটি’।
২০১২ সালে ভারতের সঙ্গে ও ২০১৪ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। এর ফলে সমুদ্রে বিরাট এলাকা নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি মিলে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয় বঙ্গোপসাগরকে। যদিও এর আগেই শুরু হয়ে যায় সমুদ্রে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান। এ পর্যন্ত মোট চারটি কোম্পানি বিভিন্ন সময় অনুসন্ধান শুরু করলেও কাজ শেষ না করেই সবাই চলে গেছে। এখন সমুদ্রে কোনো অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে না। তাই ২৬টি ব্লকেই দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে।
