বাজারে সংকট নেই তবুও সংযমের মাসে লাগামহীন দাম
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব মানেই মানুষের জীবনে অনাবিল আনন্দ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাম্যের বার্তা। কিন্তু আমাদের দেশে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি একটি নেতিবাচক ‘চেনা চিত্র’ প্রতি বছরই ফিরে আসে, তা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।
উৎসবের প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের ব্যয়ের পরিধি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে রমজান বা যেকোনো উৎসবের পূর্বমুহূর্তে বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি এখন একটি নৈমিত্তিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
স্বাভাবিক নিয়ম নাকি অভ্যাসে পরিণত অনিয়ম?
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা বিশেষ ছাড় বা অফারের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। অথচ আমাদের দেশের চিত্র পুরোপুরি বিপরীত। উৎসব ঘনিয়ে এলেই চাল, ডাল, তেল, চিনি থেকে শুরু করে পোশাক, সবকিছুর দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। সরবরাহ সংকট বা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির দোহাই দেওয়া হলেও, বাস্তবে বাজারের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি অনেক ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ চেইন ঠিক না থাকা এবং অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বাজার মনিটরিং ও কাঠামোগত দুর্বলতা
প্রতি বছর রমজানের আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান দেখা গেলেও, তার স্থায়ী প্রভাব খুব কমই পড়ে। কাঠামোগত সংস্কার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকায় এই উদ্যোগগুলো সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে না। ফলে বছরের পর বছর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। তাদের উৎসবের আনন্দ অনেক ক্ষেত্রেই আয়ের সাথে ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতার কারণে ম্লান হয়ে পড়ে।
নৈতিকতা ও সমাধানের পথ
উৎসবের মূল শিক্ষা হলো সংযম ও সহমর্মিতা। সেই সময়টিকেই মুনাফা লোটার সুযোগ হিসেবে দেখা চরম নৈতিক বিচ্যুতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে :
ডিজিটাল ট্র্যাকিং : আমদানি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পণ্যের তথ্য স্বচ্ছ ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা।
সিন্ডিকেট ভাঙা : প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব কমানো।
শক্তিশালী নজরদারি : ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া।
পরিশেষে, কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সামাজিক সচেতনতা। উৎসব যেন মুনাফার হাতিয়ার না হয়ে মানবতার বার্তা বহন করে, সেটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
