×

অর্থনীতি

বাজেটে তামাক কর

নিন্মবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম

নিন্মবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপেক্ষিত

ছবি: ভোরের কাগজ

আগামী প্রজন্মকে তামাকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ও নতুন তামাকসেবী কমাতে হলে অবশ্যই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে, তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর। 

সোমবার (১০ জুন) রাজধানীর শ্যামলীস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের অর্কিড মিটিং রুমে বাজেটোত্তর প্রতিক্রিয়া : প্রসঙ্গ তামাক মূল্য ও কর শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমন দাবি জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক, ইকবাল মাসুদ। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যে হারে বেড়েছে, সেই অনুপাতে বাড়েনি তামাকজাত দ্রব্যের দাম। এমনকি, বাংলাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের কর বাড়ানোর হার পাশ্ববর্তী দেশেরগুলোর চাইতে তুলনামূলক অনেক কম।

আরো পড়ুন:সংসদে ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

আরো পড়ুন:হাইকোর্টের আদেশ মানছেন না ভোক্তার জব্বার মন্ডল

২০২৪-২৫ অর্থ-বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি শলাকার দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র ৫০ পয়সা। 

এদিকে, বাজেটে সিগারেট, জর্দা, গুলের দাম বাড়ানো হলেও দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বিড়ির দাম। যেখানে দেশের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মধ্যে বিড়ি সেবন হার বেশি। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে নিন্মবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্য সুরিক্ষায় বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে। 

গত কয়েক বছর বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ৪০ শতাংশ থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত। 

অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও, তামাকজাত দ্রব্য তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সাধ্যের মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। 

তামাকজাত দ্রব্যের নামমাত্র এই মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র ও তরুণ জনোগোষ্ঠীকে কোনোভাবেই সিগারেটে নিরুৎসাহিত করবে না। কেননা, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে প্রকৃত অর্থে সিগারেটের দাম বিগত বছরের তুলনায় কমে গেছে। এতে করে সস্তা সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাবে। এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বহুগুনে বাড়বে।

বাংলাদেশে ৩৫ ভাগের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মারা যান। চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৫ লাখ তরুণসহ মোট ১১ লাখের অধিক মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

তাই, তামাকজাত দ্রব্যের সকল স্তরের মূল্য ও কর তামাকবিরোধী সংগঠগুলোর প্রস্তাবিত হারে বৃদ্ধি না করা হলে সরকার বাড়তি ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সুযোগ হারাবে এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগের স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়বে। এমনকি বাড়বে সাধারণ জনগণের ‘আউট অফ পকেট এক্সপেনডিচার’।

এসময় ঢাকা আহছানিয়া মিশন, স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App