ট্রাকচালকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে গোপাল চন্দ্র দাসকে (৪২) হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানাধীন গণপাড়া এলাকার তরিকুল ইসলাম সরদার সম্রাট (৩৪) ও পিরোজপুর জেলার সদরের দুর্গাপুরের বাসিন্দা বাবুল হোসেন মাঝির থেকে আবেদীন মাঝি রাজু (৪২)।
রোববার (১৫) মার্চ দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল র্যাব-৮ এর সিপিএসসির কোম্পানি কমান্ডার মো. কামরুজ্জামান।
তিনি জানান, অপরাধীরা লাশ যাতে শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য গলা কেটে মাথার অংশ নদীতে ফেলে দিয়েছিল।
কিন্তু অপরাধীরা কোন অপরাধ সংগঠিত করলে কিছু না কিছু নিদর্শন রেখেই যায়, যার সূত্র ধরেই ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে র্যাব ও পুলিশের সদস্যদের প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করা হলো। নিহত গোপাল চন্দ্র দাস (৪২) পেশায় একজন ট্রাকচালক।
পিরোজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, গত শুক্রবার গোপাল চন্দ্র দাসকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি মোটরসাইকেলে করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে যায় রাজু ও সম্রাট।
এরপর গোপালকে হত্যা করে তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ওই দিন বিকেলে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে তথ্য প্রেরণের মধ্য দিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনরা। পরে ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
আরো পড়ুন: খুলনায় অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আটক ৭
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরই পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনার তদন্তে নামে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূর্ব শত্রুতার পাশাপাশি নারী ও মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোপাল চন্দ্র দাসকে হত্যা করেছে বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তবে হত্যার পর নিহতের মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র নদীতে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ইট-ভাটায় প্রবেশ পথে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন তিনটার দিকে একটি মোটরসাইকেলে ইটভাটায় প্রবেশ করে তিনজন।
