পুতুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী
মিজানুর রহমান,বাগাতিপাড়া, (নাটোর) থেকে
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। আইনজ্ঞ হিসেবে তার দক্ষতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও নির্বাচনে প্রাপ্ত ব্যাপক জনসমর্থনের ভিত্তিতে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পান ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু (কলস প্রতীক) ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকেন। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টায় নাটোরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।
রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে পুতুলের এ জয় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে তিনি তার প্রয়াত পিতা ফজলুর রহমান পটল-এর হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন। ফজলুর রহমান পটল ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ দেড় যুগ পর আবারও এ আসনে ধানের শীষের বিজয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্যারিস্টার পুতুলের রয়েছে আইনি জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি শিক্ষা, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নারী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদে তার অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
নাটোর-১ আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ তাকে আধুনিক ও শিক্ষিত নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। নারী নেতৃত্ব হিসেবে তার বিজয় স্থানীয় নারীদের মাঝেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই বলছেন, তিনি মন্ত্রী হলে শুধু নাটোর-১ নয়, পুরো জেলাজুড়েই উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।
এদিকে এবারের নির্বাচনে নাটোর জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। এতে করে জেলায় দলটির সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মন্ত্রিসভা গঠনের সময় নাটোরের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিতে পারে।
