শেরপুরে কমছে নদ-নদীর পানি, বন্যায় নিহত বেড়ে ৮
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টির পানিতে শেরপুরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত চারদিনে বন্যার পানিতে নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলায় মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টি কমে আসায় ও সীমান্তবর্তী এলাকার নদ-নদীগুলোতে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কমায় জেলায় কোথাও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি আবার কোথাও অবনতি ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে যাওয়ায় নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী এবং শ্রীবরদী উপজেলার উজানে ১৫ ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
আবার ঢলের পানি ভাটির দিকে নামতে থাকায় নালিতাবাড়ীর কলসপাড়, যোগানিয়া, মরিচপুরাণ ইউনিয়ন, নকলার উরফা, পৌরসভা, নকলা ও গণপদ্দি ইউনিয়ন, ঝিনাইগাতীর হাতিবান্দা ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার গাজীরখামার, পাকুড়িয়া, ধলা ও কামারিয়া ইউনিয়নসহ ১৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এসব এলাকার পানিবন্দি মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে যেতে দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, জেলার প্রায় সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে। পানি কমতে শুরু করেছে এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, চলতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৪৬ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমির রোপা আমন আবাদ, ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ, বস্তায় চাষ করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৪ বস্তা আদা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় অন্তত ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৩০ জন কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বন্যার কারণে পানি ওঠায় জেলায় ২৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশার কথা জানিয়ে বলেছেন, পাহাড়ি খরস্রোতা চেল্লাখালি ও ভোগাই নদী এখন বিপদসীমার বেশ নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর বৃষ্টি কিংবা উজানে ভারী বর্ষণ না হলে নদ-নদীগুলোর পানি আরো কমবে এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
