×

সারাদেশ

ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকির আসল কারণ জানা গেল

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:২০ পিএম

ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকির আসল কারণ জানা গেল

সায়েদুল হক সুমন

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে হত্যার হুমকির আসল কারণ জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সুমনকে হত্যা নয়, প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়ার মূল উদ্দেশ্য। বুধবার (১০ জুলাই) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আক্তার হোসেন। তিনি জানান, সোহাগ মিয়া পেশায় একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলাও রয়েছে। ইতিপূর্বে সে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারও হন। 

পুলিশ সুপার আক্তার হোসেন আরো বলেন, পুলিশ তদন্ত করে প্রমাণ পেয়েছে, সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হককে ‘হত্যার পরিকল্পনার’ কাহিনি ছিল আটক সোহাগের সাজানো গল্প। তিনি এই কাহিনি তৈরি করে সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার পাশাপাশি তার কাছ থেকে অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সিলেট মহানগর এলাকা থেকে সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোহাগ মিয়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সোহাগ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি ২০১১ সালে কাজের সন্ধানে বিদেশে যান। সেখানে সাত বছর অবস্থানের পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন। এরপর এলাকার ১০ থেকে ১২ জনের কাছ থেকে পর্তুগাল নেয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৮ থেকে ১০ লাখ করে টাকা নেন। কিন্তু তাদের বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। প্রায় এক বছর সেখানে থাকার পর দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার পর আর্থিক অভাব-অনটনে পড়েন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রথমে হ্যাকার হওয়ার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ইন্টারনেটে হ্যাকিং বিষয়ে ধারণা নিয়ে ডার্ক ওয়েবসাইট ব্যবহার শুরু করেন।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হিংগাজিয়া (মোবারকপুর) গ্রামের মন্তাজ মিয়ার ছেলে সোহাগ মিয়া ওরফে মো. সুমেল মিয়া চুনারুঘাট থানার ওসির মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জানায়, তার জীবনের ঝুঁকি আছে এমন তথ্য তার কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে ২৮ জুন চুনারুঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ পুলিশ ও ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সমন্বয়ে পুলিশের একাধিক টিম এর রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে।  

পুলিশ সুপার দাবি করেন, ভারতীয় একটি গল্প পড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জীবনে হুমকি আছে তথ্য দিয়ে প্রতারণার কৌশল জানতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সায়েদুল হকের ওপর হুমকি আছে এমন ভিডিও ক্লিপ দেখতে পান সোহাগ। তখন তিনি তাঁর (সংসদ সদস্য) আস্থাভাজন হয়ে প্রতারণা করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সংসদ সদস্যের ফোন নম্বর না থাকায় তিনি চুনারুঘাটের ওসির কাছে ফোন করে নম্বর চান।

উল্লেখ্য, হত্যার হুমকি পেয়ে গত ২৯ জুন সন্ধ্যার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সংসদ সদস্য সায়েদুল হক। জিডিতে তিনি দাবি করেন, চুনারুঘাট থানার ওসির কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, তাকে হত্যার জন্য চার থেকে পাঁচজনের অজ্ঞাতনামা একটি দল মাঠে নেমেছে। এ অবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানা-পুলিশও একটি জিডি করে। হবিগঞ্জ পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও এ ঘটনার তদন্ত করা হয়। হুমকির ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সায়েদুল হকের নিরাপত্তায় একজন গানম্যান নিয়োজিত করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App