×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

শ্মশান ঘাটে আশ্রয় নেয়া দম্পতি পেলেন নতুন পাকা ঘর

Icon

মর্তুজা ফারুক রুপক, মেহেরপুর থেকে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৪ পিএম

শ্মশান ঘাটে আশ্রয় নেয়া দম্পতি পেলেন নতুন পাকা ঘর

ছবি: ভোরের কাগজ

ঘটনাটি মেহেরপুর সদর উপজেলার যুগিন্দা গ্রামের। ঘর ভাড়া দিতে না পারায় সিরাজুল ও নার্গিস খাতুন নামের এক দম্পতিকে ঘর থেকে বের করে দেন বাড়ি মালিক। পরে উপায় না পেয়ে কাজলা নদীর ধারে শ্মশান ঘাটে সরকারি জমিতে পাট খড়ি দিয়ে খুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকতে শুরু করেন এই দম্পতি। 

সেখানেই এক চোখ নষ্ট অসহায় সিরাজুল ইসলাম চা বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছিল। অসহায় ওই দম্পতি একটি ঘর পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেই শ্মশান ঘাটে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান এবং তাৎক্ষনিক শ্বশান ঘাট থেকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে তাদের নিয়ে এসে রঘুনাথপুর আশ্রয়ণের ১৪৬ নম্বর একটি সেমি পাকা ঘর প্রদান করেন। 

জানা গেছে, সিরাজুল ও নার্গিস দম্পতি মেহেরপুর সদর উপজেলার যুগিন্দা গ্রামের বাসিন্দা। বরাবরই তাদের কোনো জমি জায়গা নেই। গাংনী উপজেলার একটি ঘরে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে তারা বসবাস করতেন। তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তারা দুজনেই বিয়ে করে শ্বশুড় বাড়িতে বসবাস করেন। অসহায় দম্পতি রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করে সামান্য কিছু টাকা আয় করেন। যা দিয়ে তাদের সংসার চালানোই দায়। এমতাবস্থায় ঘর ভাড়ার টাকা দিতে না পারায় ঘর মালিক তাদের বের করে দেন। 

আরো পড়ুন: আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল

এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার এক চোখ নষ্ট। আরেক চোখে হালকা দেখতে পাই। টুকটাক চা বেঁচে কোনো রকম সংসার চলে। ঘর ভাড়া দেবো কোথায় থেকে। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া ইউএনও স্যার আমাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন আর রোদ বৃষ্টি আমাদের গায়ে পড়বে না। আমরা পাকা ঘরে থাকবো। সিরাজুলের স্ত্রী নার্গিস খাতুন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ঘরটা না পেলে হয়তো আমরা পৃথিবীতে আর বেঁচে থাকতাম না। কারণ এভাবে মাঠে মাঠে রাত কাটিয়ে জীবন চলতে পারে না। আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রী, ডিসি ও ইউএনও স্যারকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাজিব হাসান বলেন, অসহায় ওই দম্পতির বিষয়টি আমাদের নজরে এলে, আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে এসে রঘুনাথপুর আশ্রয়ণের একটি ঘর তাদের উপহার দেয়া হয়। ইউএনও আরো বলেন, বর্তমান সরকার ভূমিহীনদের বিনামূল্যে জমিসহ ঘর দিচ্ছে। ইতোমধ্যে মেহেরপুরে অনেক অসহায় পরিবার ঘর পেয়েছে। তবে জেলার সব তথ্য হয়তো আমাদের কাছে আসে না। কোনো না কোনো মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য আমাদের কাছে আসলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App