×

সারাদেশ

মেজর বা কর্নেল পরিচয়ে প্রতারণা করতেন মেম্বার জহির

Icon

চৌগাছা যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

মেজর বা কর্নেল পরিচয়ে প্রতারণা করতেন মেম্বার জহির

ছবি: ভোরের কাগজ

তিনি নিজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৯ ব্যাচের ক্যাডেট (কখনো মেজর কখনো কর্নেল), বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিডি তার বোনাই, বিমান বাহিনী যশোর বেস-এর প্রধানের পিএস তার কাছের লোক তাই চাকরির নিশ্চিত। জহিরের সঙ্গে কথাবার্তার অডিও রেকর্ডিং দেয়ার সময় এমনটাই অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য অবায়দুর রহমানের ছেলে রায়হানকে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে দেড় লাখ নিয়েছেন জহির। এভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মান সম্মানকে ধূলায় মিশিয়ে একের পর মানুষকে চাকরি দেয়ার নামে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন এই প্রতারক জহুরুল ইসলাম জহির। বলেই নওয়াপাড়ার মিল শ্রমিক হারুনের অভিযোগ। অভিযুক্ত জহির যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড (হাজিপুর) মেম্বার এবং হাজিপুর গ্রামের মজলু হকের ছেলে।

একটি অডিওতে চৌগাছার এক ভুক্তভোগীকে ইমদাদুলের কথা বলতেই জহির বলেন, ইমদাদুলের বাড়িতে আমি দাওয়াত নিয়েছিলাম। দাওয়াতটা হচ্ছে আমি কাশিপুরের একজনকে বিজিবিতে চাকরি দিয়েছিলাম। ওরা ৬ লাখ দিয়েছে চাকরিতে যোগদানের আগে বাকি ৪ লাখ দেওয়ার কথা। তখন আমি পুলিশ নিয়ে টাকা আনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমাকে টাকা না দিয়ে বিজিবি দিয়ে গ্রেফতার করাতে চেয়েছিল। এজন্য বিজিবির মেজর হাফিজকে ডেকেছে। (এই কাশিপুর শার্শা থানার একটি গ্রাম এবং এখানে একটি বিজিবি ক্যাম্প আছে)। 

তখন আমি গালি দিয়ে বললাম,‘এই তুই কার ডাকছিস। এ ক্যাম্পের যেই অফিসার আছে তার থেকে আমি ৫ বছরের সিনিয়র। কারণ আমি ৪৯ ব্যাচের ক্যাডেট। আর এখানে যারা আছে তারা মনে হয় ৫৫ ব্যাচের। শেষে যখন মেজর আনোয়ার সাহেব আসছে তখন আমি আপনার পরিচয় দিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ আমি যশোর ঝুমঝুমপুর ক্যাম্পের বিজিবির লে.কর্নেল সিদ্দিক সাকেবের অনুরোধে কাজটা করে দিয়েছিলাম। তখন মেজর সৈনিকদের দিয়ে ওদের আটকিয়ে ওদের বাড়ি থেকে একটা চেক আনিয়েই তবে চৌগাছায় ফিরতে ফিরতে রাত ১২টা। কথার শেষে তিনি ভুক্তভোগীকে বলেন, ‘আপনার ছেলে এবং ইমদাদুলের চাকরি না হলে আমি এই কাজ ছেড়ে দেবো।’

আরো পড়ুন: হঠাৎ অসুস্থ ডেপুটি স্পিকার, নেয়া হলো ঢাকায়

এদিকে গত ২৩ এবং ২৪ জুন দৈনিক ভোরের কাগজ অনলাইন এবং পত্রিকায় এই জহির মেম্বারকে নিয়ে ‘প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়েছেন মেম্বার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন ভুক্তভোগীকে একের পর এক জহিরের কুর্কীতির বিষয়ে মুঠোফোন এবং সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ দিতে থাকে। অপরদিকে জহির তার বিরুদ্ধে নিউজের কারণে জগন্নাথপুর গ্রামের হাসানের কোনো টাকা ফেরত দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন। হাসান জহিরের কাছে ১৫ লাখ টাকা পাবেন। গত ৪ বছর আগে তিনি ৫জনের চাকরির জন্য এই টাকা জহিরকে দিয়েছিলেন। সেই হুমকির রেকর্ডিং হাসানের কাছে সংরক্ষিত আছে। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে সংবাদ বন্ধকরতে বিভিন্নরকম অফার দিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি যোগাযোগ করছেন। তারা জহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ বন্ধ করে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ এই ভোরের কাগজে দিলেই মোটা অঙ্কের টাকা দেবেন বলেও জানিয়েছেন। এই জহির একটি হত্যা, প্রতারণাসহ একাধিক মামলার আসামি বলে পুলিশ এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে হাকিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন,‘ভাই আমি বিএনপি আর জহির আওয়ামী লীগের লোক। আমি কীভাবে তার বিচার করবো? তবে জহিরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্যি বলেও জানান তিনি।

এদিকে জহিরের বিষয়ে চৌগাছা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধূরির বলেন, আমার কাছে জহিরের বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ২৮ জুন বিকাল ৬ টার সময় জহিরকে মুঠো ফোনে দুবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App