×

সারাদেশ

রাজশাহীজুড়ে ‘রাসেল ভাইপার’ আতঙ্ক, নেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম

Icon

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম

রাজশাহীজুড়ে ‘রাসেল ভাইপার’ আতঙ্ক, নেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম

ছবি : প্রতীকী

রাজশাহীতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে রাসেল ভাইপার সাপের উপদ্রব। জেলায় এ সাপের কামড়ে ইতোমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সব উপজেলায় এখনো অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিনই সরবরাহ নেই। ফলে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বিশেষভাবে প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরমভাবে আতঙ্কিত। এমতাবস্থায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন সরবরাহসহ দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে গত ১৫ জুন জেলার পবা উপজেলার হরিয়ান এলাকার মো. সানাউল্লাহ নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। লিচু বাগানে কাজ করার সময় তাকে এ সাপে দংশন করে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার আগের মে মাসে এ সাপের কামড়ে শাকিনুর রহমান সাব্বির নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী মারা যান। তার বাসা জেলার চারঘাট উপজেলায়। সাব্বিরকে সাপে কাটার আগের দিন ৫ মে সামাউন আলী নামে গোদাগাড়ী উপজেলার এক কৃষকের মৃত্যু হয় রাসেল ভাইপারের কামড়ে।

আরো পড়ুন : রাসেলস ভাইপার দেখলেই যোগাযোগ করবেন যেসব নাম্বারে

তথ্যমতে, ২০১৩ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেশে সর্বপ্রথম রাসেল ভাইপার সাপের কামড়ে আহত রোগী পাওয়া যায়। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে পবা, চারঘাট, বাঘা ও গোদাগাড়ী উপজেলার চর এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবছরই এ সাপ নিয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। এসব উপজেলায় এ বছরও সাপটির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি চোখে পড়ছে। তবে এখনো সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিনই নেই।

স্থানীয়রা জানান, গোদাগাড়ী উপজেলার পোতাহার পালসা, সুলতানগঞ্জ কাচারপাড়া, কুঠিপাড়া, বারুইপাড়া কেশবপুর, সাহাপুকুর, পাহাড়পুর, ধনঞ্চয়পুর, গোমা, চালনা, ভূষণা, রিশিকুল, পবা উপজেলার চর মাজারদিয়াড়, চর আষাড়িয়াদহ, চর খিদিরপুর ও বাঘার ফতেপুরে বেশ কয়েকটি রাসেল ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছে। এসব এলাকায় মাঠে নিরাপদে কাজ করার জন্য কৃষকদের সরকারিভাবে বুট জুতা প্রদানের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি নামে স্থানীয় একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, সাপে কাটা কৃষকসহ গ্রামের সাধারণ মানুষেরা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমরা সরকারের কাছে সেটির দাবি জানিয়েছি। যাতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন।

এদিকে সচেতনতা সৃষ্টিতে জেলার পবা ও মোহনপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নবাজ’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো. আমানুল্লাহ আমান বলেন, মাঠ ও ঝোঁপঝাড়ে কোনো প্রটেকশন ছাড়াই কাজ করছেন গ্রামের কৃষক-শ্রমিকরা। আতঙ্ক থাকলেও জনসাধারণের কোনো সতর্কতা নেই। তাছাড়া সাপে কাটলে ওঝার মাধ্যমে বিষ নামানোর প্রতি এখনো অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার রয়ে গেছে অনেক গ্রামে। ফলে বিপদ আরো জটিল হচ্ছে। সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামপর্যায়েও সচেতনামূলক সঠিক বার্তা পৌঁছতে হবে।

তবে এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক। তিনি বলেন, আতঙ্ক বেশি ছড়ানো হচ্ছে। তারপরও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া আছে এবং মানুষের কী করণীয়- সেই কাগজ আমরা পেয়ে গেছি এবং প্রতিটি উপজেলায় দিয়ে দিচ্ছি বিলি করার জন্য।

ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, আমাদের কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম আছে, আর ২-১ দিনের মধ্যে সব উপজেলায় অ্যান্টিভেনম চলে আসবে। কেউ কোনো কবিরাজ বা ওঝার কাছে যাবেন না। সাপে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।


টাইমলাইন: রাসেলস ভাইপার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App