×

সারাদেশ

বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার : কোথাও মৃত্যু, কোথাও আক্রান্ত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ০৮:৫৮ এএম

বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার : কোথাও মৃত্যু, কোথাও আক্রান্ত

ছবি : প্রতীকী

সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ যেন এক নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও এই সাপের কারণে মানুষ মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এক দিনে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে সাপের ছোবলে নিহত হয়েছে বেশ কিছু মানুষ। আহত হওয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাপ পিটিয়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে। একটি জেলায় ছোবলে আহত হওয়ার পর সাপটিকে পিটিয়ে মেরে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শুক্রবার সাপের ছোবলে মানিকগঞ্জে কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাপের কামড়ে যশোরের শার্শায় এক মাদ্রাসা ছাত্র ও ঢাকার ধামরাইয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এসব এলাকাতেও রাসেলস ভাইপারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জেলায় জেলায় এই সাপ দেখা গেছে চরাঞ্চল বা ফসলের মাঠে। তবে ভোলায় এই সাপের প্রকোপ উপদ্রব দেখা দিয়েছে বাসা বাড়িতেও।

রাসেলস ভাইপারের ছোবলে মানিকগঞ্জে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। চরাঞ্চলে ফসলের মাঠে কাজ করার সময় ছোবলে মারা গেছেন ৫০ বছর বয়সী হোসেন ব্যাপারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কামড়ে আহত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।

আরো পড়ুন : রাসেল ভাইপার নিয়ে ভয়-উদ্বেগের সত্যিই কোনো কারণ আছে?

চেয়ারম্যান বলেন, চরাঞ্চলে গরুর জন্য ঘাস কাটার সময় হোসেন বেপারীকে ছোবল দেয় রাসেলস ভাইপার। পরে তাকে দ্রুত ফরিদপুর হাসপাতালে নেয়া হয়।

শুক্রবার বিকেলেও আরেক কৃষককে একই জাতের সাপ ছোবল দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চরাঞ্চলের লোকজন খুব আতঙ্কে আছি। হরিরামপুরের তিনটি চরে ৫-৬ জন এবং আমাদের পাশের ফরিদপুরের চরাঞ্চলের ইউনিয়নেও ৮-১০ জন এ সাপের কামড়ে মারা গেছেন।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো শাহরিয়ার রহমান বলেন, এর আগে হরিরামপুরের চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবারও চরাঞ্চলে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।

ঢাকার ধামরাইয়ে সাপের কামড়ে তহিরন নেছা নামে ৬৩ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে এলাকায় ‘রাসেলস ভাইপার’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার আমতা ইউনিয়নের আগজেঠাইল কাঁচা রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন জানান।

তিনি বলেন, ভোরে তহিরন নেছাকে বাড়ির পাশে সাপে কামড় দেয়। এলাকাবাসী দ্রুত তাকে নিয়ে পাশের সাটুরিয়া সদর হাসপাতালে রওনা দেন। পথেই তার মৃত্যু হয়। তবে কী ধরনের সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যশোরের শার্শায় সাপের কামড়ে ফোরকানুল ইসলাম নামে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তাকে সাপে কামড় দেয়। গ্রামের কবিরাজ, বদ্যিসহ নানাজনকে দেখানোর পর অবস্থা গুরুতর হলে রাত ৮টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় কামড়ে দেয়া সাপসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন এক কৃষক। সাপটি দেখে রাসেলস ভাইপার বলে নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হাবাসপুর চর আফড়া গ্রামের পদ্মার চরে একটি বাদাম ক্ষেতে ছোবলের শিকার হন কৃষক মধু বিশ্বাস।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রাসেলস ভাইপার দেখতে পেয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে এলাকাবাসী। উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী বাজারের পাশে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাপটিকে দেখতে পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা এসে সেটিকে পেটায়।

ফরিদপুরের দুর্গম চরাঞ্চলের বাদাম ক্ষেতে একটি রাসেলস ভাইপারকে পিটিয়ে মেরেছে এক চাষি। শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের ঢোলার চর এলাকায় সাপটিকে পিটিয়ে মারা হয়।

ভোলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে গত পাঁচ দিনে ১১টি রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার হয়েছে। অধিকাংশ সাপ স্থানীয়রা মেরে ফেললেও একটি সাপ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল, মানুষের বাসাবাড়ি ও খেলার মাঠের পাশাপাশি ভোলা সদরের বাসা বাড়িতেও বিষাক্ত এই সাপ উদ্ধারে খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।বাসা বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছিটাচ্ছেন মালিকরা।

বরিশাল নগরীর এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি সাপের বাচ্চা। বাচ্চাটি রাসেলস ভাইপার প্রজাতির বলে ধারণা করছে উদ্ধার করা শৌখিন সাপুড়ে মজিবুল হক মজনু। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন হাওলাদারের ঘর থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

কীভাবে ছড়াল এত জেলায়

বিলুপ্ত ঘোষণা করা এই সাপের ছোবলে আহত হয়ে ২০১৩ সালে রোগী যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে সাপটি। বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্ষায় উত্তরাঞ্চল থেকে কচুরিপানায় ভেসে সাপগুলো ছড়িয়ে পড়েছে পদ্মা অববাহিকায়। এ কারণে মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, চাঁদপুরে দেখা যাচ্ছে প্রজাতিটির।

দক্ষিণ বঙ্গে বরিশাল, পিরোজপুরসহ ২৬ থেকে ২৭টি জেলায় এর সন্ধান মিলেছে। বিশেষ করে ধান ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ছোবলের শিকার হয়েছেন কৃষকরা। বেশ কয়েকজন জেলেও মারা গেছেন এই সাপের কামড়ে।

এই মৃত্যুর একটি কারণ হলো জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া সাপের বিষের প্রতিষেধক পাওয়া যায় না। অথচ সাপে ছোবল দেয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব প্রতিষেধক না দিলে রোগী বাঁচানো কঠিন। আবার বাংলাদেশে এই প্রতিষেধক তৈরিও হয় না। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্থানীয় সাপের বিষ থেকে প্রতিষেধক তৈরির পরামর্শ দিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা কৃষকদেরকে গামবুট ও হাতে লম্বা গ্লাভস পরার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা জানান, বিষাক্ত হলেও এই সাপ আক্রমণাত্মক নয়, নিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি মনে করলেই কেবল সে ছোবল দেয়। আর তার আগে হিসহিস করে শব্দও করে। ফলে সচেতন থাকলে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ আছে।

টাইমলাইন: রাসেলস ভাইপার

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App