×

সারাদেশ

শেরপুরে লোডশেডিংসহ পিডিপির লোকবলের অভাবে দুর্ভোগে লক্ষাধিক গ্রাহক

Icon

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০১:১৮ এএম

শেরপুরে লোডশেডিংসহ পিডিপির লোকবলের অভাবে দুর্ভোগে লক্ষাধিক গ্রাহক

ছবি: ভোরের কাগজ

শেরপুর বিদ্যুতের লোডশেডিং ও লোকবলের অভাবসহ নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। জানা গেছে, শেরপুর জেলাসদরসহ ৫ টি উপজেলায় ১ লাখের ও বেশি পিডিপির বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা দিতে শেরপুর জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় ৫টি বিদ্যুৎ অফিস রয়েছে। জেলার নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিজস্ব ৩টি  অফিস থাকলেও ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভাগের নিজস্ব কোন অফিস ভবন নেই। ফলে ভাড়া নেয়া ঘরে চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সকল কাজকর্ম। অফিসগুলোতে রয়েছে লোকবলের অভাব।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষাধিক গ্রাহকের সেবা দিতে যে পরিমাণের লোকবল প্রয়োজন তার চারভাগের একভাগ লোকবলও নেই বিদ্যুৎ বিভাগে। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না বিদ্যুৎ গ্রাহকরা । লোকবলের অভাবে গ্রাহকদের মিটার না দেখেই বিল করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে ।

ঝিনাইগাতী উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক একেএম সামেদুল হক বলেন, প্রতিটি গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার দেখে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করার নিয়ম থাকলেও লোকবলের অভাবে তা করা সম্ভব হয় না। এতে প্রায় সময় অতিরিক্ত বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে শতশত গ্রাহকদের । এনিয়ে বিদ্যুৎ কর্মচারীদের সঙ্গে প্রায়শই ঝামেলায় জড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের ।

উল্লেখ্য, দেশের সর্বত্র সব বিভাগে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও শেরপুরে বিদ্যুৎ বিভাগে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। অভিযোগ রয়েছে বাঁশের খুঁটি ও রাস্তার পাশে গাছপালার সঙ্গে তার ঝুলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। জরাজীর্ণ  অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় আকাশে মেঘ জমলেই এখানে বিদ্যুৎ থাকে না। দুর্ঘটনা এড়াতেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বলে জানা গেছে। এরপরেও মাঝে-মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষ ও গৃহপালিত পশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে অহরহ ।

শেরপুরে বাঁশের খুঁটি ও রাস্তার পাশে গাছপালার সঙ্গে তার ঝুলিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যু সরবরাহের দৃশ্য। ছবি: ভোরের কাগজ

জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রায় সময় রাস্তার পাশে গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। কিন্তু লোকবলের অভাবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। কোনো কোনো সময় ১-২ দিন সময় লেগে যায় বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করতে। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।    

এদিকে লোডশেডিংয়ের কথাতো বলাই বাহুল্য। ওই এলাকায় প্রতি দিন প্রায় ১০ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে । এতে কৃষি জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প কারখানায় ও  ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক মন্দাভাবসহ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

বিদ্যুৎ বিভাগের শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাহাব উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গড়ে জেলায় বিভিন্নস্থানে লোডশেডিং হয় ৪৫ ভাগ।  এ ছাড়া বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘবে লোকবল বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App