×

সারাদেশ

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাচন: দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

Icon

ফারুক আহমদ, সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৩:৪৭ পিএম

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাচন: দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ছবি: ভোরের কাগজ

রাত পোহালেই মঙ্গলবার (২১ মে) সিলেটের জৈন্তাপুরে উপজেলা নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কাগজে-কলমে পাঁচজন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে আটজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে চেয়ারম্যান পদে লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী নেতা রোটারিয়ান আব্দুল গফ্ফার চৌধুরী খসরুর মধ্যে। এ দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশা করছেন সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনের ফলাফল নিজ নিজ পক্ষে আনতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট এ দুই প্রার্থী। 

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুশলবিনিময়, পথসভা, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। দিচ্ছেন নানারকম প্রতিশ্রুতি। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজর, পাড়া-মহল্লা ও চায়ের দোকানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন নতুন উপজেলা চেয়ারম্যান। এ নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ করছেন তারা। এবারের নির্বাচনে জৈন্তাপুরে চেয়ারম্যান পদে কাগজে-কলমে পাঁচ প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে যারা করছেন তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল গফফার চৌধুরী খসরু, জাতীয়পাটি নেতা এম ইসমাইল আলী (আশিক) ও প্রবাসী হোসেন আহমদ। 

তাদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল আহমদ ও প্রবাসী হোসেন আহমদ নির্বাচন থেকে ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে (পুরুষ) বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, মাওলানা কবির উদ্দিন, সাহাদ উদ্দিন (সাদ্দাম), নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালিক, আব্দুল হক, মাসুক উদ্দিন, শংকর দাশ। ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পলিনা রহমান, মোছাম্মৎ পারভীন আক্তার, জয়মতি রানী ও সোনারা বেগম। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানা গেছে। 

এ কারণে উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ভোটের হিসাব-নিকাশ শেষে বিজয়ী হবেন কে, এ নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অপরদিকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএনপি নির্বাচনে না আসায় নির্বাচনের মাঠে আলোচনায় নেই স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করছেন।


জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বহুল আলোচিত-সমালোচিত পাথর ব্যবসায়ী লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগসহ একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলোর কারণে দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের এ ডাকসাইটে নেতা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তামাবিল কয়লা চুনাপাথর আমদানী গ্রুপের সভাপতি হিসেবে এ উপজেলায় বিশাল অনুসারী রয়েছে এম লিয়াকত আলীর। তাছাড়া সীমান্তবর্তী এ উপজেলাকে চোরাচালানের নিরাপদ রোড হিসেবে গড়ে তুলতে একটি মহল এম লিয়াকত আলীকে উপজেলা চেয়ারম্যান করার জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে। ফলে নানান অভিযোগ থাকা সত্বেও উপজেলা চেয়ারম্যানের দৌঁড়ে লিয়াকত আলীর পক্ষে পাল্লা ভারী। 


তবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা রোটারিয়ান আবদুল গফফার চৌধুরী এদিক দিয়ে কিছুটা এগিয়ে। প্রবাসে থাকলেও তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান দিয়ে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাড়িয়ে প্রশংশিত হয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনের ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটের হিসাব-নিকাশ ততই ওলট-পালট হচ্ছে। ভোটাররাও কথাবার্তায় সতর্ক হয়ে উঠছেন। ঘোর সমর্থক ছাড়া প্রকাশ্যে কিছু বলে সাধারণ ভোটারদের কেউ কারো বিরাগভাজন হতে রাজি না। আবার এখনো অনেকে কাকে ভোট দেবেন, তা ঠিক করতে পারেননি। তবে তারা নানা দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। লিয়াকত আলীর সমর্থক জৈন্তাপুর ইউনিয়নের লামনিগ্রামের সাহাবুদ্দিনের ভাষ্য, উপজেলাজুড়ে লিয়াকত আলীর বিশালকর্মী বাহিনী রয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আনারস বিপুল ভোটে জয়ী হবে এমন আশাই করছেন তারা।


আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর সমর্থক দরবস্তের আমীন উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রার্থী প্রবাসী হলেও বিগত কয়েক বছরে তিনি এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান দিয়ে উন্নয়ন কাজ করেছেন। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন ফলে এবারের নির্বাচনে কাপ-পিরিচ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। সাধারণ ভোটার অবশ্য খোঁজ করছেন যোগ্য ব্যক্তির। উপজেলার আলু বাগান এলাকার বেলচা শ্রমিক আব্দুর রহমান বলেন, ‘যাঁকে সবসময় কাছে পাব, তাঁকেই ভোট দেব।’ 


একজন শিক্ষিত ও সৎ লোককে ভোট দিতে চান চিকনাগোলের মোদি দোকানদার হারুন মিয়া। সাধারণ ভোটারের ভাষ্য, প্রবাসী আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করলেও এলাকায় যোগাযোগ কম। তবে লিয়াকত আলী গত নির্বাচনে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিন সাধারণ ভোটারের কাছে না ভিড়লেও বিগত কয়েকমাস থেকে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন বারবার। 


আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর অভিযোগ, আনারস প্রতীকের প্রার্থী নিজে ও সমর্থক নেতাকর্মীরা তাঁর নেতাকর্মীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি ১০ হাজার ভোট বেশি পাবেন। অপর প্রার্থী এম লিয়াকত আলী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেছেন তিনি এবার জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।


উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ রিপন হোসেন ভোরের কাগজকে জানান, জৈন্তাপুরে মহিলা-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ জন।এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার হলো ৬৯ হাজার ৯৪৭ জন আর নারী ভোটার ৬৪ হাজার ৬৫৩ জন।  তিনি আরো জানান, জৈন্তাপুরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৪৬টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে।  ৪৬টি কেন্দ্রের মধ্যেই প্রায় অর্ধেকই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আইন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চিহ্নিত করেছে।


এদিকে, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের নেতৃত্বে ৬টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যে মাঠে থাকবে। এছাড়া আরো দুটি টিম রিজার্ভ হিসেবে থাকবে বলে তিনি জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App