×

সারাদেশ

জেলেদের মিশ্রচাষে ‘তারা বাইন’ মাছে অধিক লাভ

Icon

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম

জেলেদের মিশ্রচাষে ‘তারা বাইন’ মাছে অধিক লাভ

ছবি: ভোরের কাগজ

ডুমুরিয়া (খুলনা) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। এফএও অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। জাতীয় আয় ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য মৎস্য চাষ ও খাদ্যাভাস গড়ে তোলার প্রভাব রয়েছে। মৎস্যখাত বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি। আর এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে তারা বাইম চাষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ মাছ অধিকাংশ সময় গলিত ও পচা জৈব পদার্থ খেয়ে বড় হয়। এ মাছ পানির তলদেশে কাদার ভেতর লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। এ মাছ সাধারণত প্রবহমান এবং স্থির স্বাদু পানিতে বাস করে এবং ছোট আকারের খাল-নদী, জলাধার, বিল-প্লাবনভূমিতে এবং পুকুর-দীঘিতে বসবাস করে।

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ছোট পুকুরেই চাষ করা ভাল। তারা বাইন মাছ পুকুরের তলদেশে কাদার ভিতর থাকে বিধায় এ মাছ ধরার জন্য পানি সেচের প্রয়োজন হয়। পুকুরের পাড় যথেষ্ট চওড়া হতে হবে যাতে বর্ষার সময় মাছ কাঁকড়ার গর্ত দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে। পুকুরের পানির গভীরতা ৪-৫ ফুট হতে হবে। স্বল্প গভীর পুকুরের তলদেশে সূর্যের আলো প্রবেশ করে যা তারা বাইন মাছ সহ্য করতে পারে না। পুকুরটি মাটির মধ্যে খোলামেলা স্থানে হলে ভাল হয়। পুকুরের তলদেশ বালুকাময় বা কিছুটা কাদা থাকাতে হবে কারণ এ মাছ স্বভাবগতভাবে কাদার ভেতরে অবস্থান করে তবে ৫-৬ ইঞ্চির বেশি অতিরিক্ত কাদা থাকা ঠিক নয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মো. তোফাজউদ্দিন আহমেদ বলেন মিশ্র চাষে তারা বাইন অধিক লাভের নিশ্চয়তা দেয়।

চাষের পদ্ধতি নির্ধারণ: লাভজনক মাছ চাষের জন্য সঠিক মাছ চাষ পদ্ধতি নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য সঠিকভাবে বাজারে বিক্রয় উপযোগী তারা বাইন কচুরিপানা তথা জলজ আগাছার মধ্যে ডিম দেয়। বর্তমান সময়ে তারা বাইন মাছ সাথি ফসল হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ হচ্ছে। হ্যাচারিতে এ মাছের প্রণোদিত প্রজনন সম্ভব হয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ছোট প্রজাতির মাছের ভেতরে এ মাছটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব খুবই বেশি। সুস্বাদু এ মাছ বেশ জনপ্রিয় এবং বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রয় হয়। এ মাছ দৈর্ঘ্য প্রায় ২০-২৫ সেমি. হতে দেখা যায়। তারা বাইম মাছ সর্পিলাকার, শরীরের রং হলুদাভ হয়ে থাকে এবং এ মাছের লেজের দিকে গোলাকার তারার মতো কালো দাগ থাকে বলে এ মাছটিকে তারা বাইন নামে ডাকা হয়।

এ মাছটি চাষের বেশ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে যেমন- এ মাছটি রাক্ষুসে স্বভাবের নয় বিধায় অন্য মাছের সাথে, মিশ্রভাবে চাষ করা যেতে পারে; এ মাছের অক্সিজেন স্বল্পতাজনিত সমস্যা তেমন হয় না: বর্তমানে এ মাছের পোনা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে; সাথি ফসল হিসেবে বাড়তি খাবার ছাড়াও চাষ করা যায়। চাষের পুকুর নির্বাচন: মাছচাষের সফলতা, সঠিকভাবে চাষের জলাশয় নির্বাচনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। তারা বাইম মাছ ছোট বড় সব ধরনের পুকুরে চাষ করা যেতে পারে। তবে পুকুর নির্বাচনের পরে চাষের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে। তারা বাইন মাছচাষের বিষয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে এ মাছ এককভাবে চাষ করার চেয়ে অন্য মাছের সাথে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করায় ভাল। এ মাছ পানির তলদেশে বাস করে। একক চাষ করলে পুকুরের উপরের স্তরসমূহ অব্যবহৃত থেকে যাবে। যারা এ মাছচাষে সফল হয়েছেন তারা সকলে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। সাধারণভাবে রুইজাতীয় মাছ, পাবদা-গুলশা, গলদা চিংড়ি ও তেলাপিয়া মাছের সাথে এ মাছচাষ করা যেতে পারে। যে সকল মাছ চাষের সময় পুকুরের পানি অধিকতর সবুজ হয়ে যায় (যেমন থাই কৈ, পাংগাস ইত্যাদি) সে সব মাছের সাথে তারা বাইন মাছ চাষ না করা ভাল।

চাষের পুকুর প্রস্তুতি: আগেই উল্লেখ করা হয়েছে তারা বাইম মাছের একক চাষের তেমন প্রচলন নাই। সাধারণত রুইজাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ পদ্ধতিতে চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে কার্পজাতীয় মাছের চাষের জন্য যেভাবে পুকুর প্রস্তুত করতে হয় সেভাবেই এ মাছ চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুত করতে হবে। বিশেষ করে পুকুরের ভেতরের পাড় ভালোভাবে মেরামত করতে হবে এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে পুকুরের পাড়ে যেন কোন সুড়ঙ্গ বা গর্ত না থাকে। পুকুরে পানি প্রবেশের বা বের করে দেবার জন্য কোন প্রকার নালা রাখা যাবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App