নামেই ১৪৪ ধারা
রেললাইনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ পশুর হাট
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রেললাইনের ওপর বসেছে পশুর অবৈধ হাট। অথচ রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুট করে মোট ২০ ফুট এলাকায় সব সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। বরং মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম-নাজিরহাট রেললাইনের হাটহাজারী রেলস্টেশনে এই ঝুঁকিপূর্ণ পশুর হাট বসাতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ট্রেন চলাচলেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, ট্রেন চলাচলের সময় বা সাধারণভাবে রেললাইনের দুই পাশের ২০ ফুটের মধ্যে নির্দিষ্ট কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদিপশুর প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই সীমানার ভেতরে কাউকে পাওয়া গেলে আইনের ১০১ ধারায় গ্রেপ্তার করার বিধান রয়েছে। এমনকি সেখানে গবাদিপশু চরলে তা আটক করে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধানও আছে। এরপরও কীভাবে রেললাইনের ওপর কোরবানির পশুর ঝুঁকিপূর্ণ হাট বসছে, তা বোধগম্য নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কোরবানির পশু কিনতে আসা পৌরসভার মোহাম্মদপুর এলাকার ক্রেতা মো. জামাল উদ্দিন ও উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের গরু বিক্রেতা নূর আলম বলেন, রেললাইনের পাশে গরু-ছাগল নিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু বাজার ইজারা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে, তাই পশুর হাটের জন্য নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কিন্তু বাজার ইজারাদার কোনো কিছু তোয়াক্কা না করেই নিজের ইচ্ছেমতো হাট পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বিক্রেতারা সিগন্যাল, রেলের স্লিপার কিংবা পয়েন্টের চাবির সঙ্গে গরু বেঁধে রাখছেন। অনেকে রেললাইনের ওপর বসেই গরু-ছাগল বিক্রি করছেন। ট্রেন এলে ক্রেতা-বিক্রেতারা পশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পশুর অবৈধ হাটটির ইজারাদার পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগর বলেন, “পুরা বাংলাদেশে বসাচ্ছে। তাই আমিও রেললাইনের উপর পশুর হাট বসিয়েছি।”
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, “পৌরসভা রেললাইনের উপর কোনো পশুর হাট বসানোর ইজারা দেয়নি। আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। কেন বসানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন বলেন, “রেললাইনে পশুর হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সচিব মহোদয়ের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
