×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

রাজধানী

তাপপ্রবাহ থেকে শিগগিরই পরিত্রাণ নেই

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৯:৪২ পিএম

তাপপ্রবাহ থেকে শিগগিরই পরিত্রাণ নেই

ছবি: ভোরের কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এপ্রিলের শুরু থেকেই এখানে প্রচন্ত তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শিগগিরই এ থেকে পরিত্রাণ নেই। বাংলাদেশ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম তাপপ্রবাহের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া এবার ৫২ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডটিও ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঘটনার কারণে জলবায়ু বিপন্ন অঞ্চলের জনগোষ্ঠী বরাবরই ভুক্তভোগী। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অধিকাংশ মানুষ হিট স্ট্রোকের মতো নানা রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল রেঁনেসায় তাপপ্রবাহের ঝুঁকি, এর কারণ ও প্রতিকার নিয়ে ব্র্যাকের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের উদ্দেশ্য ছিল তাপপ্রবাহের বিজ্ঞান-নীতি-অনুশীলন সমন্বয় সম্পর্কে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে অবগত ও সচেতন করা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন। তাপপ্রবাহের কারণ ও পূর্বাভাস নিয়ে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) অধ্যাপক এলফাতিহ এ.বি. এলতাহির ও গবেষক ইয়েওন উ সেই।

আরো পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএনসিসির মাসব্যাপী সচেতনতামূলক অভিযান শেষ

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন। নগরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ঢাকা উত্তরের তাপপ্রবাহের সমস্যাগুলো পয়েন্ট আউট করেছি। এ সমস্যা সমাধানে আমাদের স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিকল্পনা আছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার তাপপ্রবাহ নিয়েও কাজ করার আগ্রহ আছে জানিয়ে চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন বলেন, আমি চাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা নেয়া হোক। আমি চাচ্ছি ঢাকা সাউথের জন্যও কাজ করতে। গরমের কারণে আমাদের অনেক বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

ঢাকার তাপমাত্রা কবে কমবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বুশরা আফরিন বলেন, ঢাকার তাপমাত্রা কমবে তো যখন আমাদের গ্লোবাল তাপমাত্রা, গ্লোবাল কার্বন কমবে। এটি এক মুহূর্তে শহরের তাপপ্রবাহ কমানো সম্ভব নয়। আমরা সবাই চাই তাহলে এটি অসম্ভব কিছু নয়।

বুশরা আফরিন বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহে আমাদের দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তবে এই তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে তাদের কোন উপায় জানা নেই। আমাদের উচিত তাদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করা। ওই এলাকাগুলোতে তার সমাধান করা।

আরো পড়ুন: ভালো ভাবনার আহ্বানে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস উদযাপিত

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলতি মৌসুমের তাপপ্রবাহের প্রভাব নিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, নগর উন্নয়ন কর্মসূচি ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।

সেমিনারে তাপপ্রবাহের কারণ এবং এর প্রতিকার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ধরিত্রী কুমার সরকার, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর শামীম হোসেন ভূইয়া, আবহাওয়াবিদ ডা. মো. আবুল কালাম মল্লিক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম, সাইফুল ইসলাম। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাপস রঞ্জন চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবিলায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি-এর সহযোগিতায় 'জামিল অবজারভেটরি-ক্রুজনেট' প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ুর আগাম তথ্য সরবরাহ করে জলবায়ু বিপদাপন্ন এলাকার জনগোষ্ঠী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলারত স্থানীয় কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠী এবং এমআইটির মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জ্ঞানের ব্যবধান কমাতে কাজ করছে। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App