×

রাজধানী

দশ মিনিটে বিয়ের বিচ্ছেদ হচ্ছে ১ মিনিটে

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ০৭:১৫ পিএম

দশ মিনিটে বিয়ের বিচ্ছেদ হচ্ছে ১ মিনিটে

ছবি: সংগৃহীত

নরনারীর দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে মধুর সময় হলো বিয়ে। তবে দাম্পত্যে মিল না হলেই সে সম্পর্ক রুপ নিচ্ছে বিচ্ছেদে। সব সময়ে খুব সহজ হয় না এই বিচ্ছেদ। সামাজিক বিয়ের সম্পর্কের সঙ্গে নানা বিষয় জড়িয়ে থাকে। কিন্তু প্রেমের বিয়ে কিংবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে-দাম্পত্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে এক প্রকার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

এসব বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন কয়েক মিনিটের মধ্যেই হয়। আবার ১ মিনিটের মধ্যেই এসব বিয়ের অনেক বিচ্ছেদও ঘটছে। মোবাইলে বিয়ে প্রবাসী নারী-পুরুষের মধ্যেই ঘটছে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেম কিংবা ডিজিটাল বিয়ে ব্যক্তি (বর ও কনে) পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব বেশি দেয়া হয়। পরিবার সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দের মূল্যায়ন খুব একটা হয় না এ ক্ষেত্রে। ফলে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। 

মোবাইলে বিয়ের প্রায় ক্ষেত্রে সংসার এবং দেখাদেখিও হচ্ছে না, বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে তার আগেই। আবার এমনও দম্পতি রয়েছেন, প্রেমের বিয়ে-হাজারো দুঃখ-দুর্দশা, চাওয়া-না পাওয়ার মধ্যেও যুগের পর যুগ টিকে আছে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, বিবাহবিচ্ছেদ আগের চেয়ে দিন দিন বাড়ছে।

রাজধানীর দুই সিটির তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে ঢাকায় তালাকের আবেদন পড়েছে প্রায় ১৪ হাজার। ২০২২ এই সংখ্যাটি ছিল ১৩ হাজার ২৮৮টি। গত ৫ বছরে তালাক হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার। এমন হিসাবে রাজধানীতে প্রতিদিন বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটছে অন্তত ৪০টি। অর্থাৎ তালাকের ঘটনা ঘটছে প্রতি ঘণ্টায় ১ দশমিক ৬৩। 

বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদন বলছে, দেড় যুগ ধরে তালাকের হার দেশে ঊর্ধ্বমুখী। সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে গ্রামাঞ্চলে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক তানিয়া হক গণমাধ্যমকে বলেন- ‘প্রেম এবং মোবাইলে বিয়ের অধিকাংশই বাল্যবিবাহ। এসব বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনাও তুলনামূলক বেশি। বিচ্ছেদের অধিকাংশ বাল্যবিবাহের ঘটনা থেকে আসছে। এমন বিয়ে ঘূণের মতো সম্পর্ককে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলে। আবার সন্দেহপ্রবণতা থেকেও বিচ্ছেদ হচ্ছে অহরহ। বিচ্ছেদের আবেদন নারীরাই করছেন বেশি । মোবাইলের বিয়ে বন্ধ হওয়া উচিত। 

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দায়িত্বরত এক কাজী জানান, এখন অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে কাজীরা শুধু জড়পদার্থ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কাবিন করাতে যা যা প্রয়োজন তা সঠিক কিনা যাচাইয়ের কোনো ক্ষমতাই থাকে না কাজীদের। বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রপাত্রী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের পছন্দে বা দুই পরিবারের অভিভাবকদের পছন্দেই হোক জীবনসঙ্গী নির্বাচনে ভুল হলে মাসুল দিতেই হয়। দিন যত যাচ্ছে দেশে বিচ্ছেদের হার ততই বাড়ছে।

বিচ্ছেদের বড় আরেকটি কারণ পরকীয়া। বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস নামের জরিপ বলছে, তালাক বা বিচ্ছেদের দুই ধরনের হার পাওয়া গেছে। একটি হলো স্থূল, যেটি মোট জনসংখ্যার অনুপাতে বিচ্ছেদের হার। অন্যটি সাধারণ বিচ্ছেদের হার-এতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের হিসাব করা হয়। বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বড় কারণ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া। জরিপে উত্তরদাতাদের প্রায় ২৩% এই কারণের কথা বলেছেন। আর দাম্পত্যজীবন পালনে অক্ষমতার কারণে ২২% বিচ্ছেদ হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী ২০০৬ থেকে ২০২১ সাল সময়ে স্থূল বিচ্ছেদের হার ০.৬ থেকে ১.১%-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে। ২০২২ সালে তা বেড়ে ১.৪%-এ দাঁড়ায়। ২০২১ সালে নারীদের সাধারণ বিচ্ছেদের হার ছিল ২%-এর কিছুটা কম। সেটা পরের বছর বেড়ে ৩.৬%-এ দাঁড়ায়। একইভাবে পুরুষের ক্ষেত্রে হারটি ২০২১ সালে ছিল ২%-এর সামান্য বেশি। পরের বছর তা বেড়ে হয় ৩.৮%।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App