×

রাজধানী

ডায়েরিতে যা লিখে গেছেন সেই তরুণী

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৯:২২ এএম

ডায়েরিতে যা লিখে গেছেন সেই তরুণী

রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিনকজি কটেজ বহুতল ভবনে ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে এক সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি খাতুনেও রয়েছেন। ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে তার নাম জানা যায় ‘বৃষ্টি খাতুন’। অন্যদিকে, তিনি তার নাম ব্যবহার করতেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। তার সহকর্মীরা এ নামে চিনতেন। নামের এই জটিলতার কারণে তার পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। 

মারা যাওয়ার আগে ঢাকার রমনা কালীমন্দিরের সভাপতিকে ওই তরুণী জানিয়েছিলেন, তার মা-বাবা বেনারসে থাকতেন। তারা মারা যাওয়ায় দাদুর হাত ধরে ঘটনাচক্রে তিনি কুষ্টিয়ায় এসেছিলেন ছোটবেলায়। অভিশ্রুতির দাদু মারা গেলে একটি পরিবার তাকে দত্তক নিয়েছিল। তবে বৃষ্টির মা বিউটি বেগম তার মেয়ে বৃষ্টি সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে তার নিজহাতে ডায়েরিতে লেখা জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে সেটি বের করে দেখান।

বৃষ্টি খাতুনের ডায়েরিতে লেখা আছে, ‘আমার নাম বৃষ্টি। আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। আমরা তিন বোন। আমি সবার বড়। আমার বয়স ১১ বছর। আমার অন্য দুটি বোনোর নাম ঝর্ণা, বর্ষা। আমার বাবার নাম শাবরুল আলম সবুজ। আমার মায়ের নাম শাহনাজ পারভীন (বিউটি খাতুন)। আমার স্কুলের নাম বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়। আমার বাড়ি বনগ্রাম। জেলা কুষ্টিয়া। থানা খোকসা। আমার স্কুলে ২০০ ছাত্র-ছাত্রী। এরমধ্যে আমাদের ক্লাসে ছাত্রী বেশি। আমাদের স্কুলে সুকুমার স্যার আমাকে খুব ভালোবাসেন।’

শনিবার বৃষ্টির মা বিউটি বেগম বলেন, বৃষ্টিকে আমি গর্ভে ধারণ করেছি। বৃষ্টি, ঝর্ণা ও বর্ষা তিনজনই আমার সন্তান। বৃষ্টি বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এসএসসি পর্যন্ত বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইসএসসি পাশ করেন। পরে ইডেন মহিলা কলেজে ভর্তি হন। 

তার মা জানান, মোবাইলে বৃষ্টির সঙ্গে তার শেষ কথা হয় ২৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে। বৃষ্টি জানায় মিটিং শেষ করেছে এবং তার আরও কিছু কাজ বাকি আছে, বাসায় ফিরে কথা বলবে। এরপর তার ফোন আর আসেনি। পরের দিন তার ননদের ছেলে রেজোয়ান মোবাইল ফোনে বৃষ্টির খোঁজ নিতে বলে এবং তিনি খোঁজ নিয়ে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর পান। 

বৃষ্টির খালাতো বোন জানান, বৃষ্টিকে ফোন দিলে জানায় আপু আমি ব্যস্ত আছি। চার মাস আগে বৃষ্টির সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। নাম পরিবর্তন করে ফেসবুক চালানো বা ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে চার মাস আগে বৃষ্টি বাড়িতে আসলে নামাজ পড়াসহ সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। 

বৃষ্টির বান্ধবী শারমিন আক্তার জানান, তিনি বৃষ্টির সঙ্গে ১০ বছর পড়ালেখা করেছেন। ইতিপূর্বে নামাজ-রোজা উভয়ই একসঙ্গে করেছেন। বৃষ্টির ধর্ম পরিবর্তনের কোনো কিছু তিনি জানেন না।

গ্রামের ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা মিনা পারভিন জানান, বৃষ্টির মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে খারাপ লাগছে। বৃষ্টি মেধাবী ছাত্রী ছিল। ছোটবেলা থেকে মেয়েটি শান্ত স্বভাবের ছিল।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App