বরিশালে সাবেক মন্ত্রী-ডিসি-পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা
এম.কে. রানা, বরিশাল থেকে
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় প্রার্থীর সামনে থেকে এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান।
মামলার বাদী মশিউল আলম খান পলাশ, যিনি বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চলছিল এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা প্রচারণায় বাধার মুখে পড়েন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, তৎকালীন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানসহ মোট ১৪ জনকে।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদী হাসান মোল্লা ও কনষ্টবল ফয়জুল।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার-এর সঙ্গে নির্বাচনী লিফলেট বিতরণে যাওয়ার সময় সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় তাদের স্পিডবোটকে তিন দিক থেকে ধাওয়া করা হয়। পরে বিশ্বাসেরহাট এলাকায় পৌঁছালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে বরিশাল অঞ্চলের নদীপথে।
তিনি দাবি করেন, অপহরণের পর চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে বন্দর থানায় নিয়ে গিয়ে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সেদিন তাকে হত্যা করা হয়নি।
পলাশ বলেন, নির্যাতনের কারণে এখনও তিনি শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি আদালতে মামলা করেন এবং প্রথমে বন্দর থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে ঘটনাস্থল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
অবশেষে কীর্তনখোলা নদী এলাকায় ফিতা দিয়ে পরিমাপ করে ঘটনাস্থল নিশ্চিত করা হয় এবং আদালত কোতোয়ালি মডেল থানাকে মামলাটি এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
