নীতিসুদ হার ১০ শতাংশ রেখেই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল মাথায় রেখে আগের ধারা অনুসরণ করেই বছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে নীতিসুদ হার আগের মতই ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে তৃতীয় ও শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
মূল্যস্ফীতি কমে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার না কমানোর আভাস আগে থেকেই ছিল। সবশেষ জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরেও যা ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাবে চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও রোজার কারণে মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।
সেই প্রেক্ষাপটে গত তিন মাস ধরে নতুন করে চড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির পারদ আগামী দুই মাসে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আশাবাদী, এটাও (মূল্যস্ফীতি) কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরো ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।
কেবল একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একটা টার্গেট পূরন হয়নি দেখে গুলি ছোড়া ঠিক হবে না। আমরা তাই এই মূহুর্তে পলিসি রেট কমাব না।”
মূল্যস্ফীতি কমে আসার বিষয়ে আশাবাদী গভর্নর বলেন, “রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত অগাস্ট থেকে আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি। আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে।”
নীতি সুদহার বেশি রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “এর সুবিধা এখন পাচ্ছি আমরা। রেমিটেন্সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে।”
মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে না আসা পর্যন্ত নীতিসুদ হার না কমানোর পরামর্শ দিয়ে রেখেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার আগের মতই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
আগের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশে ঠিক রেখে এসডিএফ হার ৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বার ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ খাতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে কী পরিমাণ অর্থের সরবরাহ থাকবে, তার সম্ভাব্য পরিকল্পনা মুদ্রানীতিতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক ছয় মাস অন্তর মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো মাত্রায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। ২০২৪ সালের আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। তবে ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে, যা গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মূলত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে তুলনামূলক কম ঋণ নিচ্ছেন।
