আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি আবার ইউনুসকে নিয়ে সমালোচনা, রনির উদ্দেশ্য কী?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১১:৩৮ পিএম
আওয়ামী লীগের হয়ে রাজনীতি করেছিলেন গোলাম মাওলা রনি।২০০৮ সালে ওয়ান এলিভেনের সময় শেখ হাসিনার পক্ষ নিয়ে কলাম লিখেছিলেন রনি। সেই সুবাদে হাসিনা সরকারের আমলে পেলেন পটুয়াখালী-৩ আসনের মনোনয়ন। নির্বাচনে জিতে আর পিছনে তাকাতে হয়নি রনিকে। আওয়ামী লীগের প্রভাবে শুরু হয় রনির দুর্নীতির হাতেখরী। শিপিং বিজনেজ, টেক্সটাইল বিজনেসসহ নানা ধরনের ব্যবসার সাজিয়েছেন তিনি। আলাদিনের চেরাগের আলোতে নিজের সম্পদ বাড়িয়ে হয়েছেন ধনকুবের।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, নিজে ধনী হলেও সঙ্গে থাকা লোকজন, যারাই তার কাছে ভিড়েছে, সবাই বিপদে পড়েছে। কারণ রনি শুধু নিজের দিকটাই চিন্তা করতেন। প্রয়োজনে দল পাল্টাতেও দ্বিধাবোধ করেন না সাবেক এই সংসদ সদস্য। পটুয়াখালিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে রনির বিরুদ্ধে বহু আগে থেকেই। এলাকার তার নামে চাঁদা তোলা হত মোটা অংকের। অন্যের খাস জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়ারও নজির রয়েছে।
রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উঠা রনির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হলে, সাংবাদিককে মারধর করেন এই রাজনীতিবিদ। এরপরেই তাকে আওয়ামী লিগ ছাড়তে হয়। রাজনীতি থেকে বহুদিন দুরে থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন গোলাম মাওলা রনি। বলেছিলেন আজীবন তিনি বিএনপির রাজনীতি করবেন। কিন্তু এরকিছুদিন পরেই খালেদা জিয়ার দল ত্যাগ করেন তিনি।
২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর ড.ইউনুসকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন। কখনো বলছেন ইউনুসই এবার পারবে দেশকে এগিয়ে নিতে আবার বলছেন ইউনুসের সঙ্গে যারা যোগ দিয়েছেন সবাই ঘোর বিপদে রয়েছেন। তাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য পরতে হবে।
আওয়ামী লিগ ছেড়ে বিএনপি আবার জামায়াতের সঙ্গেও তার তলে তলে ভাব। এই অবস্থায় রনি আসলে কি করতে চাচ্ছেন বোঝা বড় দায়। তবে দল পরিবর্তনে নিজের স্বার্থটাকেই সবসময় প্রাধান্য দেন তিনি। সাবেক এই সংসদ সদস্য নিয়ে প্রবাসি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন একটি ভিডিও বানান, যেখানে তার রাজনৈতিক ভোল পাল্টানোর ইতিহাস থেকে শুরু করে সকল কুকীর্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সেই ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতেই গোলাম মাওলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন,যেখানে তিনি সাংবাদিক ইলিয়াসকে বদদোয়া দিতে দেখা যায়।
