×

কৃষি

ডুমুরিয়ায় ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

Icon

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ০২:১৯ পিএম

ডুমুরিয়ায় ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ছবি: ভোরের কাগজ

ডুমুরিয়ায় প্রথম বারের মত ব্রি হাইব্রিড-৩ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার‌ সময় ডুমুরিয়া উপজেলা উলা‌ ব্লকে বোরহান সরদারের ব্রি হাইব্রিড-৩ জাতের ধান কর্তন‌ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন, কৃষক রবিউল ইসলাম, গ্রুপ লিডার বোরহান সরদার, আসাবুর রহমানসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১% হারে চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে, পক্ষান্তরে জনসংখ্যার সাথে যুক্ত হচ্ছে ২৪ মিলিয়ন নতুন মুখ। এই বর্ধিত জনসংখ্যাকে দু-বেলা দুমুঠো খেয়ে পরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন।

এজন্য কৃষকও ঝুকছে হাইব্রিডের দিকে। তবে, বাংলাদেশে চাষকৃত অধিকাংশ হাইব্রিড ধানসহ অন্যান্য বীজ বাইরে থেকে আসে, ফলে কৃষককে চড়া দামে কিনতে হয়। তাছাড়া, কোন একসময় যদি বিদেশে হাইব্রিড বীজ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলার কৃষক। এজন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রি উদ্ভাবন করেছে ৬টি হাইব্রিড জাত।

এবছর ডুমুরিয়া উপজেলার উলা গ্রামের কৃষক শেখ বোরহান উদ্দিন কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথম বারের মত চাষ করেছন ব্রি হাইব্রিড ৩ জাতের ধান। বিঘাপ্রতি ফলন ৩০ মন যা উফশির চেয়ে ৩০% বেশি এবং জীবনকাল ১৪৫ দিন, স্বল্প জীবনকালিন হওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি।

তিনি বলেন, দেশীয় হাইব্রিড প্রথমে শঙ্কায় ছিলাম আসলে কেমন হবে এখন ধান দেখে খুব খুশি। প্রতিবেশী কৃষক আমাকে জিজ্ঞেস করে জাতটি কী? এটি লবনও সহ্য করতে পারে, আগে এখানে ২৮ ধান লাগাতাম এত ভাল হতনা। 

প্রতিবেশী কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন- বুরহান ভাইর ধান দেখি আমার ভাল লেগিছে, আমি আরবছর এডা লাগাব। 

কেবল রবিউল নয়, গ্রামের অধিকাংশ লোকই এটি দেখে খুশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইনসাদ ইবনে আমিন এই প্রতিবেদককে বলেন বোরহান সরদার  মূলত আমার কৃষক পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প এর আওতায় যে গ্রুপ গঠন করা হয় সেই গ্রুপের গ্রুপ লিডার। সে সহ গ্রুপটিকে বীজ উৎপাদন,সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এবছরই প্রথম সে ব্রি হাইব্রিড-৩ জাতের ধান লাগিয়েছে। এটি উচ্চ ফলনশীল, স্বল্প জীবনকালিন এবং লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় এটি এ এলাকা উপযোগী একটি জাত। এটির বীজ কৃষক অন্যান্য হাইব্রিডের তুলনায় কম দামে কিনতে পারবে এবং ধানটিও অনেক সুন্দর। আগামীতে এটি আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানিয়েছেন- এই অঞ্চলে আবাদ করা হয়েছে ২লাখ ৫৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমি। যা গত বছরের চেয়ে বেশী। চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে ১১লাখ ৩৮ হাজার ৮৭১ মেট্রিকটন। চাল উৎপাদনও বেশী হবে। ধান কর্তন করা হয়েছে ২লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৭ হেক্টর। যা ৯৯শতাংশ। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চল।

এই অঞ্চলের মধ্যে খুলনা জেলায় জমি আবাদ  করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৮৬০হেক্টর। কর্তন করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৭১১ হেক্টর। চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ২ লাখ ৯০ হাজার ৪৭১ মেট্রিকটন। বাগেরহাট জেলায় জমি আবাদ করা হয়েছে ৬২ হাজার ৭১৪ হেক্টর। কর্তন করা হয়েছে ৬১ হাজার ৭৭০ হেক্টর। চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৩ মেট্রিকটন।

সাতক্ষীরা জেলায় জমি আবাদ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৭৬ হেক্টর। কর্তন করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৫৭৯ হেক্টর। চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭১ মেট্রিকটন এবং নড়াইল জেলায়  জমি আবাদ করা হয়েছে ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর। কর্তন করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৬২৭ হেক্টর। চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৬ মেট্রিকটন। 

সূত্র জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এবছর এখনো সেচ সংকট দেখা দেয়নি। সরকার প্রণোদনা দেয়ায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে চাষাবাদে এগিয়ে আসছেন। হাইব্রিড ধান আবাদ করছেন ৮১ হাজার কৃষক ও উচ্চ ফলনশীল ধানের আবাদ করছেন ৭৭ হাজার কৃষক। হাইব্রিড ধানের দাম বেশী হওয়ার কারণে সরকার প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি ২ কেজি করে ১ লাখ ৬২ হাজার কেজি এবং এবং উচ্চ ফলনশীল জন প্রতি ৫ কেজি করে ৩ লাখ ৮৫ হাজার কেজি ধান দেয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহন  কুমার ঘোষ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। শীত কম থাকায় চারা ভালো হয়েছে। বোরো ধানে খাদ্য উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবেনা। কৃষক সরকারী প্রণোদনা পাচ্ছেন। যাতে তারা উৎসাহিত হয়ে কৃষি কাজে এগিয়ে আসেন। তিনি পতিত জমি ফেলে না রেখে কৃষি উৎপাদনে কৃষকদের প্রতি আহবান জানান। 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App