দিপু-মুশফিককে টেস্ট দলে নিয়ে যা বললেন নান্নু!

আগের সংবাদ

রিয়াল ছাড়ছেন বেনজেমা

পরের সংবাদ

ইসি মো. আলমগীর

সুপারিশ নয়, যৌক্তিক দাবিতে ১০ আসনের সীমানা পরিবর্তন

প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৩ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ৪, ২০২৩ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ

সংসদ সদস্য বা কোনো বিশেষ ব্যক্তির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নয়, ১০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়েছে যৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং স্থানীয় ভোটার-জনসাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বক্তব্য আমলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (৪ জুন) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। এর আগে শনিবার পিরোজপুর-১ ও ২, গাজীপুর-২ ও ৫, ফরিদপুর ২ ও ৪, কুমিল্লা-১ ও ২ এবং নোয়াখালী-১ ও ২ আসন- মোট ১০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ প্রসঙ্গে মো. আলমগীর বলেন, আমাদের নির্বাচনী আসন জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণের জন্য খসড়া প্রকাশ করতে হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যে তালিকা ছিল সেটাই আমরা খসড়া হিসেবে প্রকাশ করেছিলাম। এই কমিশনের যে চিন্তাভাবনা, তা হলো যেহেতু দুটি নির্বাচন মোটামুটি এই সীমানায় হয়েছে এবং ১৮ সালে নির্বাচন হয়েছে, এটাকে যতটা সম্ভব পরিবর্তন না করা। ২০১৪ সালে ৪০টি ও ২০১৮ সালে ২৫টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন করা হয়েছিল। তার আগে আরও বেশি ছিল। এই সমস্ত পরিবর্তন করলে বেশি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। যত পরিবর্তন কম করা যায়, এটা ছিল আমাদের টার্গেট (লক্ষ্যমাত্রা)।

তিনি বলেন, আইনে যেহেতু বলা আছে খসড়া প্রকাশ করতে হবে এবং আপত্তি থাকলে তা গ্রহণ করতে হবে, আমরা সেটা করতে বাধ্য। এজন্য খসড়া প্রকাশ করার পর আহ্বান করেছিলাম। এই খসড়া পরিবর্তন করার জন্য ৩৮টি আসনের সীমানায় পরিবর্তনের জন্য ১২৬টি আবেদন পড়ে। আর ৬০টি আবেদন পড়েছিল, যে খসড়াটা ঠিক আছে কোনো রকম পরিবর্তন করার দরকার নাই। কমিশন এরপর শুনানি দিয়েছে। সবার শুনানি, যত কথা ছিল, যত কাগজপত্র, ম্যাপ জমা দিয়েছে; আমরা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনা করেছি একাধিক বৈঠকে। আমরা চারদিন শুনানি নিয়েছিলাম। সবকিছু দেখে যেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেটা হলো যে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভেটাররা কী মনে করেন, আমরা কোনো স্থানীয় নির্বাচনে কে আসবেন, কে আসবেন না, কে হয়েছেন, কে হয়নি, সেটা দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় হলো, আগামী নির্বাচনে কে নমিনেশন (মনোনয়ন) পাবেন, কোন দল থেকে সেটা তো আমরা জানি না। অতএব, তাদের বক্তব্য যতটা না গুরুত্বপূর্ণ তার বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকার ভোটার কী বলেন। ভোটারদের সবাইকে তো আর ডাকা যায় না। যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থাকেন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, মেম্বার, কাউন্সিলর ও উপজেলার যারা চেয়ারম্যান ছিলেন, তারা যে বক্তব্য রেখেছেন সেগুলো ও বর্তমানে এমপি মহোদয় আছেন তাদের বক্তব্য আমরা শুনেছি। দেখা গেছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো এমপি মহোদয় এরকম বলছেন, আবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অন্য রকম বলছেন। আমরা দুটো ধৈর্য সহকারে শুনেছি এবং পর্যালোচনা করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আইনে আছে ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও প্রশাসনিক সুবিধা আগে দেখতে হবে। এরপর জনসংখ্যা যতটুকু সম্ভব আমলে নিতে হবে। জনসংখ্যাকে আগেও প্রাধান্য দেয়া সম্ভব হয়নি, এখনো হয়নি। কেননা, জনসংখ্যা যদি আমরা আমলে নিতে যাই তাহলে অনেক জেলায় আসন আরো কমে যাবে। কোনো জেলায় একটা আসন হয়ে যাবে। আমরা এটা করি না। সেই ভিত্তিতে আমরা পাঁচটা আসনে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই পাঁচটা আসনের কারণে বাকি পাঁচটাতে পরিবর্তন এসেছে।

মো. আলমগীর বলেন, জনসংখ্যার বণ্টন। এটা করতে গেলে ঢাকায় একটা ওয়ার্ড আছে, যাকে আসন করতে হয়। এটা তো করা কঠিন। বর্তমান জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতি আসনে যদি ৫ লাখ ৫৫ হাজার করে ধরি, ঢাকায় ১০টা, গাজীপুরে পাঁচটা আসন বাড়বে। সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহীতেও বাড়বে। এগুলো তো সিটিতে চলে আসছে। এজন্য আমরা প্রাধান্য দিয়েছি প্রশাসনিক অখণ্ডতা ও ভৌগলিক সুবিধা এবং স্থানীয় পর্যায়ে যারা জনপ্রতিনিধি আছেন তাদের বক্তব্য আমলে নিয়েছি।

কাউকে সুবিধা বা অসুবিধা ফেলার কোনো সিদ্ধান্ত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, প্রশ্নই আসে না। আমরা তো জানিই না কে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সেটা জানার তো সুযোগ নেই। আইনে যেভাবে বলেছে, সেভাবে করেছি। এর বাইরে কাউকে দেখার বা তাকানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, যেগুলো আবেদন যৌক্তিক মনে হয়েছে, সেগুলো আমলে নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের লজিক্যাল কাজ করার ক্ষমতা সংবিধান দিয়েছে, আইন দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সেটাই করেছে।

আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আছে কারো কারো বিরুদ্ধে- বিষয়টি নিয়ে ইসির অবস্থান জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, যে অভিযোগ করেছেন তার কাছে নিশ্চয়ই প্রমাণ আছে। তাকে সেই প্রমাণ নিয়ে হাজির হতে হবে আদালতে অথবা দুর্নীতি দমন কমিশনে। প্রমাণের দায়িত্বও তো ওনার। অথবা আমাদের কাছেও আনতে পারেন। আমরাও বিষয়টি দেখবো।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়