পেশাজীবীদের সঙ্গে লিটনের মতবিনিময়

আগের সংবাদ

ফের বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক

পরের সংবাদ

হেফাজত নেতাদের দুর্নীতির অনুসন্ধান কোন পথে?

প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৩ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১, ২০২৩ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন আলোচিত হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুই বছর আগে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হলেও অদৃশ্য কারণে তা থমকে আছে। সর্বোচ্চ ৭৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করার কথা থাকলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি। কয়েক দফা অনুসন্ধান টিম পরিবর্তন কিংবা পুর্নগঠন হলেও এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো অগ্রগতি। এমনকি রহস্যজনক কারণে হেফাজত ইসলামের কোনো নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সহিংসতা চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরে হেফাজতের ডাকা হরতালে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় থানা, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। কয়েকদিনের সহিংসতায় মারা যান ১৭ জন। পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় হেফাজতের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হেফাজতের সেই সহিংস আন্দোলনে কোনো সন্ত্রাসী অর্থায়ন হয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখতে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল হেফাজতের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, সাবেক মহাসচিব প্রয়াত নূর হুসাইন কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির অর্ধশতাধিক শীর্ষ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ বাংকের অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা এবং ধর্মীয় কাজে আগত বৈদেশিক সহায়তা আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এমন অভিযোগ সামনে রেখে মূলত অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এদিকে মামুনুল হকসহ হেফাজতের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে একই সময়ে নানা অপরাধের তদন্ত করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংস্থাটি হেফাজতে ইসলামের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিতও করে। এর মধ্যে মামুনুল হকের ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি টাকার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছিল সংস্থাটি। দুদকের অনুসন্ধান টিম ডিবির এসব তথ্য-উপাত্তও আমলে নেয়। এছাড়া দুই দফায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় শতাধিক হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায় বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে। সেই তথ্য অনুযায়ী হেফাজতের ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে গরমিল পাওয়া যায়। যার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন তখন দুদকেও পাঠানো হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট ও দুদকের গোয়েন্দাদের যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুদক থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১৭ মে দুদক পরিচালক মো. আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদক টিম বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ ১১টি দপ্তরের কাছ তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এর মধ্যে কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয় টিম। সম্প্রতি সেই কমিটি আবারো পুনর্গঠন করা করা হয়। তাতেও অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি ফেরেনি। এমনকি এখন পর্যন্ত সম্পদের তথ্য চেয়ে কমিশন থেকে কোনো নোটিসও পাঠানো হয়নি হেফাজত নেতাদের। ফলে হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে শুরু করে অনুসন্ধানে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, আমরা যে কোনো অভিযোগ পেলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার চেষ্টা করি। হেফাজত নেতাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটি বিষয়টি দেখছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাকে যখন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হবে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অনুসন্ধান টিম কমিশনে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। অনুসন্ধান টিম কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করলে কমিশন সেটার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় সংগঠন হেফাজত ইসলাম ২০১০ সালে বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ২০১১ সালে বাংলাদেশ নারী ও পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে গঠিত নারী উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে তীব্র বিরোধিতায় মাঠে নামে। এরপর ২০১৩ সালে ব্লগারদের ফাঁসির দাবি এবং মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধীদের বিচার বানচালের উদ্দেশে ৫ মে ঢাকায় লংমার্চ এবং শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে সংগঠনটি সবার নজরে আসে।

এসএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়