মধুর দোকানে

আগের সংবাদ

পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর ‘কিডনীবান্ধব পথ্য’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন কতদূর?

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৩ , ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২৩ , ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের জন্য একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালে কি মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে। নানাভাবে হয়রানি হচ্ছে রোগী ও স্বজনরা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেয়ার নামে চলমান নৈরাজ্য ও নির্মমতা দেখার যেন কেউ নেই। দেশের ৬৪টি জেলা শহরের বেশির ভাগ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নেই। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিকগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। এসব হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। ওষুধ নেই। এমন খবর গণমাধ্যমে প্রায়ই আসছে। কিন্তু কোনো সুরাহা কি হচ্ছে? দেশে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণ যথেষ্ট ব্যয়বহুল। বস্তুত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো স্বাস্থ্যসেবা। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো চিকিৎসক সংকটসহ নানারকম সংকট ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। তাই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষগুলো প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বড় সংকট হলো লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির। আবার যে সরঞ্জামাদি আছে তারও সদ্ব্যবহার হয় না, যে লোকবল নিয়োজিত আছে তাদেরও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হচ্ছে না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ করার পরামর্শ দিয়েছে। গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশেরও কম বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যয় হয় বেতন-ভাতা বাবদ, বাকি অর্থ ব্যয় হয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য, যা খুবই অপর্যাপ্ত। স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে বর্ধিত বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পত্রিকার পাতায় প্রায় দিনই ছাপা হয় কোনো না কোনো এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশার খবর। তার ওপর আছে নানারকম দুর্নীতি। সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের ওষুধ বিক্রি হয় বাজারে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে নজরদারির অভাব প্রকট। অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি দরকার। সরকার একজন চিকিৎসককে গ্রামের হাসপাতালে ২ বছর থাকার নিয়ম করে দিলেও তা কেউ মানছে না। অধিকাংশ ডাক্তার যোগদানের কয়েক মাস পরেই বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে শহরে চলে যান। ফলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশে কার্যকর কোনো স্বাস্থ্যনীতি নেই। এখন আমাদের আগামী ৫০ বছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা নিয়ে ভাবতে হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান কাজ হলো বৈষম্যমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়