চৌগাছায় ছাত্রলীগের আনন্দ শোভাযাত্রা

আগের সংবাদ

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শ্যামল দত্ত

পরের সংবাদ

শ্যামল দত্ত

গণতন্ত্রের প্রতি দরদ থেকে নয় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি

প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৩ , ৫:০৬ অপরাহ্ণ আপডেট: মে ২৭, ২০২৩ , ৬:২০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি করেনি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি দেশের গণতন্ত্রের প্রতি ‘ব্যাপক দরদ’, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র যে দেশের স্বাধীনতা চায়নি, সেই দেশের গণতন্ত্রের বিকাশ চায়- এটা বৈপরীত্য।

শনিবার (২৭ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫, অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি, চাকরিতে আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদে বঙ্গবন্ধু নামে বঙ্গবন্ধু ল’ কমপ্লেক্স (বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও একটি ম্যুরাল) স্থাপনের দাবিতে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ড. হোসেন আবদুল মান্নান, বিশেষ অথিতি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটির সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ, সাবেক ফুটবলার, কোচ ও সংগঠক রেহানা পারভীন, জাগরণ টিভি প্রধান সম্পাদক এফএম শাহিন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বাংলাদেশের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ। এখানেই আমাদের রক্তের স্রোত থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের চেতনার মধ্যে সেটি নেই। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত বাংলাদেশে সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার বিষয়টিও যুক্ত।

চাকরিতে আবেদনের বয়স সীমা পয়ঁিত্রশ বছর করার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও এই দাবির সঙ্গে একমত। কিন্তু ওনার কাছে যৌক্তিকভাবে দাবিগুলো পৌছায়নি। ওনার আশেপাশে যারা আছেন, তাদের কাছেও বিষয়টা ভালোভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাই চাকরিতে আবেদনের বয়স সীমা পয়ঁত্রিশ করার দাবি পূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ড. হোসেন আবদুল মান্নান বলেন, সেশন জটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়সী পার হয়ে যায়। চাকরি না পেয়ে পরিবার ও সমাজের কাছে হেয় হচ্ছে। এটা কতটা কষ্টের তা কেবল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন। ৩৫ না হোক অন্তত ৩৩ বছর পর্যন্ত চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা করা সময়ের দাবি। আর এই দাবি বাস্তবায়নে আর একদিনও বিলম্ব করা উচিত নয়। আমার বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যদি সঠিকভাবে য্ুিক্তগুলো তুলে ধরা যায়, তাহলে অবশ্যই এই দাবি পূরণ হবে।

সেমিনারে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক শরিফুল হাসান শুভ। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ৩০ বছর বয়সী প্রার্থীদের চেয়ে ২৫ বছর বয়সীরাই ভাল করে। এই যুক্তিকে খন্ডন করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৩০ বছর বয়সে (শুধুমাত্র বিসিএস) পাশের হারের রিপোর্ট দিয়ে সমগ্র চাকরির বাজারকে বিবেচনা করা যাবে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ সামগ্রিক চাকরির বাজারের রিপোর্ট দেখে প্রমাণ করা যাবে যে, ৩০ বছর বয়সে আরো বেশি নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। কারন একটি বিসিএস দ্বারা মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার প্রার্থী নিয়োগ সম্ভব, যা গোটা চাকরির বাজারের মোট ২ শতাংশেরও কম। তাই ৩০ বছর বয়সে শুধু বিসিএসে পাশের হারের রিপোর্ট নয়, সমগ্র চাকরির বাজারের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেই সঠিক চিত্র ফুটে উঠবে। এছাড়া সরকারি চাকরি মানেই শুধুমাত্র বিসিএস ক্যাডার নয়। তাই বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি উঠলেই, বিসিএসের উদাহরণ দেয়া অযৌক্তিক।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়