বৃক্ষ নিধন নয় বৃক্ষরোপণ করুন

আগের সংবাদ

নজরুল সত্তায় প্রেম

পরের সংবাদ

বাজেটে জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে

সাধন সরকার

শিক্ষক

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৩ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৫, ২০২৩ , ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

বর্তমান সময়ের ভয়াবহ সমস্যা জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ভয়াবহ বাস্তবতায় আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এই বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রকৃতি-পরিবেশের বিরূপ প্রভাব শেষমেশ কোনো না কোনোভাবে স্বাস্থ্য খাতের ওপরই পড়ে। প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকলে মূলত সবার জন্যই লাভ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশগত অন্য সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট বাজেট ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে কোনো দেশই এখন নিরাপদ নয়! পৃথিবীব্যাপী প্রকৃতি-পরিবেশ সংরক্ষণ ও বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মূলত জলবায়ুগত সমস্যার কারণে উন্নয়ন টেকসই ভিত্তি পাচ্ছে না। বর্তমান বাস্তবতায় ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, ভূমিধস, জলোচ্ছ¡াস ও লবণাক্ততায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে ব্যাপকভাবে ভুগতে হচ্ছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতিবাচক প্রভাব কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। প্লাস্টিক ও নিষিদ্ধ পলিথিন দূষণ সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। করোনা মহামারির থেকেও ভয়াবহ দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা। অন্যসব দুর্যোগ শেষ হলেও জলবায়ু সমস্যা ক্রমবর্ধমানভাবে বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মতো বহু দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ভুগতে হচ্ছে। দিন দিন এ সমস্যা বাড়ছে। বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে জলবায়ু সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লবণাক্ততার কারণে মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জলবায়ু সমস্যায় জর্জরিত গরিব ঘরের সন্তানরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক অধিকার পাচ্ছে না। উপকূলের দক্ষিণাঞ্চলে একদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হানা অন্যদিকে খরার প্রভাব। শুধু বেঁচে থাকার জন্য উপকূলের হাজার হাজার পরিবার তাদের শিশুকে কাজে লাগিয়ে দিচ্ছে। মেয়েদের বাল্যবিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা মোকাবিলায় অভিযোজনকে গুরুত্ব দিলেও বাস্তব অবস্থা ভয়াবহ। জলবায়ু সমস্যার শিকার হয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার পরিবার শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। শহরে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার খুবই কম। এমনকি খুলনা ও সাতক্ষীরার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাইনাসের দিকে। খুলনা, সাতক্ষীরার মানুষ গ্রাম থেকে রীতিমতো পালাচ্ছে! আগামী ৫০ বছরের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মানচিত্রে ভয়াবহ বদল ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক জেলা হারিয়ে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। এই ভয়াবহ বাস্তবতায় বাজেটে জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এককভাবে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা দরকার। কেননা জলবায়ু সমস্যা বাড়তে থাকলে দেশের দরিদ্র মানুষ আরো দরিদ্র হয়ে পড়বে। ফলে অন্য খাত এগিয়ে গেলেও তার সার্বিক সুফল দেশ পাবে না। জলবায়ু সমস্যায় ভুগতে থাকা বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর অন্য দ্বীপরাষ্ট্রগুলো বাজেটে জলবায়ু সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নে বাজেটে কমপক্ষে ৮-১০ শতাংশ বরাদ্দ সময়ের দাবি। এছাড়া নবায়নযোগ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সৌর, বায়ু ও জল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।

সাধন সরকার : শিক্ষক, লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়