×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয়

কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন সময়ের দাবি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৩, ১২:২৪ এএম

কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন সময়ের দাবি

অবশেষে চিকিৎসকরা সরকারি হাসপাতালে বসেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারছেন। নিজ চেম্বারে বসেই রোগীর কাছ থেকে ফি নিতে পারবেন। তবে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন প্র্যাকটিস করতে পারবেন চিকিৎসকরা। এতে নার্স ও টেকনিশিয়ানরাও সপ্তাহে দুই দিন করে কাজ করবেন। ৩১ মার্চ থেকেই শুরু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে বসে প্রাইভেট প্র্যাকটিস। এ উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। দেশে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণ যথেষ্ট ব্যয়বহুল। বস্তুত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের অসুখে-বিসুখে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই ভরসা। সাধারণ রোগীরা এর সুফল ভোগ করবেন বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে ১০ জেলা হাসপাতাল এবং ২০ উপজেলা হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হবে। চিকিৎসকরা বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রাইভেট রোগী দেখতে পারবেন। এ জন্য অধ্যাপক পদধারী চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নিতে পারবেন রোগী থেকে। সর্বনিম্ন হিসেবে এমবিবিএস, বিডিএস (ডেন্টিস্ট) ডাক্তার নিতে পারবেন ২০০ টাকা। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো স্বাস্থ্যসেবা। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো চিকিৎসক সংকটসহ নানা রকম সংকট ও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। তাই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষগুলো প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বড় সংকট হলো লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির। আবার যে সরঞ্জামাদি আছে তারও সদ্ব্যবহার হয় না, যে লোকবল নিয়োজিত আছে তাদেরও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হচ্ছে না, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাদের জিডিপির ৫% স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ করার পরামর্শ দিয়েছে। গত ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১%-এরও কম বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থের প্রায় ৭০% ব্যয় হয় বেতন-ভাতা বাবদ, বাকি অর্থ ব্যয় হয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য, যা খুবই অপর্যাপ্ত। স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ খাতে আর্থিক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে বর্ধিত বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পত্রিকার পাতায় প্রায় দিনই ছাপা হয় কোনো না কোনো এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহালদশার খবর। তার ওপর আছে নানারকম দুর্নীতি। সরকারি বিনামূল্যে বিতরণের ওষুধ বিক্রি হয় বাজারে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে নজরদারির অভাব প্রকট। অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি দরকার। সরকার একজন চিকিৎসককে গ্রামের হাসপাতালে ২ বছর থাকার নিয়ম করে দিলেও তা কেউ মানছে না। অধিকাংশ ডাক্তার যোগদানের কয়েক মাস পরেই বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে শহরে চলে যান। ফলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশে কার্যকর কোনো স্বাস্থ্যনীতি নেই। এখন আমাদের আগামী ৫০ বছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতের রূপরেখা নিয়ে ভাবতে হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান কাজ হলো বৈষম্যমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App