ক্যাম্পে রোহিঙ্গা খুন

আগের সংবাদ

যুদ্ধস্মৃতি একাত্তর

পরের সংবাদ

ড. ইউনূস, খোলা চিঠি ও বন্ধুত্বের মায়াকান্না

তানজিব রহমান

গবেষক ও লেখক

প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৩ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মার্চ ১৯, ২০২৩ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি ৪০ জন বৈশ্বিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ড. ইউনূসের পক্ষে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, যা আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট পৃষ্ঠাজুড়ে বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করেছে। এরপরই তা বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয় এবং গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। চিঠিতে ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ইনিশিয়েটিভের অর্জনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে এই সংস্থাগুলোর ওপর সরকারি তদন্ত বন্ধ করতে বলেছে বিদেশি বন্ধুরা, যাতে নোবেল বিজয়ীর ‘হয়রানি’ বন্ধ করা যায় এবং তিনি আরো সৃজনশীল কর্মে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন। তারা সবাই বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এ চিঠি লিখছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে বন্ধুত্বের অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি দেশের আইনকে তোয়াক্কা না করেই কি কোনো আইনি বিষয়ের তদন্ত বন্ধ করার আহ্বান জানানো যায়? এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্নটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার, বাংলাদেশ সরকার কি ব্যক্তি অধ্যাপক ইউনূসের ‘তদন্ত’ করছে? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্র (এনবিআর, দুদক) তাদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করছে? বিষয়টি দেশি-বিদেশি সবার পরিষ্কার হওয়া দরকার।
বিদেশি বন্ধুরা হয়তো জানেন না, যে গ্রামীণ টেলিকমের দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এত আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে সে গ্রামীণ টেলিকমের লাইসেন্স নিয়েছিলেন ড. ইউনূস আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ১৯৯৭ সালে। প্রশ্ন জাগে- এটা কি কেবলই একটা খোলা চিঠি, না এর পেছনে আন্তর্জাতিক কোনো রাজনৈতিক নতুন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে? কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্রফল তত বৃদ্ধি পেয়েছে। আস্তে আস্তে তা যখন শ্রমিক-কর্মচারীদের টাকা পয়সায় গিয়ে ভাগ বসিয়েছে, তখন তারা প্রতিবাদ করে, মানববন্ধন করে ও সবার সামনে বিষয়গুলো নিয়ে আসতে শুরু করে, যার গভীরতা অনেক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- যে বিদেশি বন্ধুরা ড. ইউনূসের জন্য মায়াকান্না করছেন, তারা কি এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে কখনো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন? নোবেল বিজয়ী হিসেবে অর্থনীতির এ অধ্যাপক যে সুনাম কুড়িয়েছেন ২০০৬ সালে, এর মাত্র এক বছর পর ২০০৭ সালের ১/১১’র ঘটনায় তিনি নিজ দেশের রাজনীতিতে হয়ে উঠলেন অগণতান্ত্রিক একজন কুশীলব! সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনীতির মাঠ ফাঁকা করে মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের জোর প্রচেষ্টা চলছিল। তখনই হাত কচলে গাল ভরা হাসি দিয়ে সামনে চলে আসেন আলোচিত ড. ইউনূস, যার পর থেকে যেন সমালোচনা তার পিছু ছাড়ছে না। জড়াতে থাকেন একের পর এক বিতর্কে কিন্তু নিজের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমাধান নিজে না করে বিদেশি বন্ধুদের কাছে সহানুভূতি কেন ধার চাইতে হবে? সবার মনে প্রশ্ন।
এছাড়া স¤প্রতি ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে একটি চমকপ্রদ অভিযোগ উঠেছে যে তিনি তার বিরুদ্ধে গ্রামীণ টেলিকম ইউনিয়ন শ্রমিক ও কর্মচারীদের দায়ের করা ১১০টি মামলা ২৫০ মিলিয়ন টাকায় বেআইনিভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। ২০১৫ সালেও তিনি বিতর্কিত হয়েছিলেন, যখন বাংলাদেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ১.৫১ মিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ কর পরিশোধ না করার জন্য তাকে তলব করেছিল। পশ্চিমাদের নীতিতে শ্রম আইন লঙ্ঘন, কর প্রদানে ফাঁকি বা বিদেশে অর্থ পাচার বিষয়গুলো অত্যন্ত গর্হিত এবং নীতির প্রশ্নে আপসহীন। তবে তারা কি জেনেই ড. ইউনূসের পক্ষে সাফাই গাইছেন না ইউনূস সেন্টারের বুলি আওড়াচ্ছেন তা হয়তো আমরা সামনের দিনগুলোতে জানতে পারব। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রম আদালত, দুদক কিংবা এনবিআর যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা, তদন্তাধীন বিষয়ে বিদেশিদের অযাচিত মায়াকান্না মোটেও কাম্য নয়।

তানজিব রহমান : গবেষক ও লেখক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়