×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সম্পাদকীয়

সড়কে মৃত্যু ১২ জন : পরিবহন আইন বাস্তবায়নে গড়িমসি কেন?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:১৫ এএম

সড়কে মৃত্যু ১২ জন : পরিবহন আইন বাস্তবায়নে গড়িমসি কেন?

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর প্রতিদিন আমরা দেখছি। এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমন বেদনাদায়ক খবর আমরা পড়তে চাই না। সরকারের নানা উদ্যোগ থামাতে পারছে না সড়ক দুর্ঘটনা। আইন পরিবর্তন হলেও বাস্তবায়নে নানা বাধাবিপত্তি সামনে দাঁড়িয়েছে। আইন বাস্তবায়নে সরকারকে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, স্কুলশিক্ষক, পুলিশ, মা-মেয়ে ও মা-ছেলেসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, বগুড়ার শাজাহানপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক ও মা-মেয়েসহ পাঁচজন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পিকআপভ্যানের চাপায় মা-ছেলে, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মোটরসাইকেল ও মাটি কাটা মেশিনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য, মাগুরার মহম্মদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষক, চাঁদপুরের কচুয়ায় বাইসাইকেল আরোহী স্কুলছাত্র এবং নরসিংদীর মনোহরদীতে বাইক আরোহী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বুধবার রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মাদ্রাসা শিক্ষক এবং পাবনার সুজানগরে এমপির ব্যক্তিগত গাড়িচালক নিহত হয়েছেন। সড়কে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি, নৈরাজ্য, হয়রানিসহ নানান অব্যবস্থাপনা দেখছি প্রতিনিয়ত। সড়কে অব্যবস্থাপনার করুণ পরিণতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া বাস দুর্ঘটনায় কেউ হাত কিংবা পা হারাচ্ছে আবার কারো কোমর ভাঙছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এই নৈরাজ্য চলতে দেয়া যায় না। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং দুর্ঘটনাকেন্দ্রিক অপরাধের বিচার ও শাস্তি প্রদানের জন্য একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ আইনের প্রত্যাশা অনেক পুরনো। কিন্তু কোনো সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না। ২০১৮ সালে রাজধানীতে এক বেপরোয়া বাসের চাপায় ২ কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদের চাপে পুরনো আইন সংশোধন করে অপরাধের দণ্ডের মাত্রা বাড়ানোসহ কিছু কঠোরতা আরোপ করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী, গাড়ির লাইসেন্স না থাকলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। ভুয়া লাইসেন্সের জন্য শাস্তি আরো বেশি। সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন ধারায় ট্রাফিক আইন অমান্যের জন্য বাড়ানো হয়েছে শাস্তি ও জরিমানা। আইনের প্রয়োগে বাধা নিয়ে প্রভাবশালীদের ভূমিকা লক্ষণীয়। বিআরটিএও সহযোগী নয়। আমরা মনে করি, এই আইন বাস্তবায়ন করতে হলে মূলে হাত দিতে হবে। বিআরটিএ স্বচ্ছ হলে সড়ক-মহাসড়কে নৈরাজ্য প্রায় কমে আসবে। আধুনিক, মানসম্পন্ন ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন যে কোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকেও গতিশীল করে। পরিবহন খাত এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক যোগাযোগ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয় এখন পরিবহনে যুক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এজন্য সময়ের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন আইনে যে বিষয়গুলো সংযোজিত হয়েছে, তার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি মনে করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App