সন্ধ্যার সংবাদ বিশ্লেষণ

আগের সংবাদ

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ই-সিগারেট নিষিদ্ধের উদ্যোগ প্রশংসনীয়

পরের সংবাদ

শাল্লায় অসহায় নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জের শাল্লায় বাহাড়া ইউপির সুখলাইন গ্রামের বাসিন্দা অসহায় এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত হরলাল দাশের বখাটে ছেলে হিমাদ্রি দাশ (৪০) এর বিরুদ্ধে ওই নারী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

হিমাদ্রি দাশ ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের হাওররক্ষা বাঁধের ছায়ার হাওর উপ প্রকল্পের ১২৩নং পিআইসির সদস্য সচিব। ওই নারী গত শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওই নারীর ভাঙাচোরা বসত ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে হিমাদ্রি দাশ। ওইদিন সরস্বতী পূজার রাত হওয়ায় ঘরের পাশে পূজা মণ্ডপের সাউন্ড বক্সের শব্দের কারণে চিৎকার করলেও কেউ শুনতে পাননি।

এমন সময় বখাটে হিমাদ্রি দাশ ঘরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত দা হাতে নিয়ে ওই নারীর ৫বছরের ঘুমন্ত শিশু সন্তানের গলায় ধরে হুমকি দেয় যে, চিৎকার করলে তার ৫বছরের শিশুকে খুন করে ফেলবে। প্রাণভয়ে ওই নারী বখাটের খারাপ উদ্দেশের বিষয়ে কৌশলে একদিন সময় চেয়ে নেন।

ঘর থেকে বের হয়েই ওই নারীকে মুঠোফোনে কল করে বখাটে হিমাদ্রি দাশ। এ সময় বলে আমি তোমার জামাইকে ৭০ হাজার টাকা দামের একটি ক্যামেরা দিবো, ২ হাজার টাকা দামের শাড়ি কিনে দিবো। আমি হাটির মধ্যে আঙ্গুল নাচাইয়া চলতে পারবো। আমাকে নিয়মিত ধর্ষণের জন্য ভিক্ষাও চায় লম্পট হিমাদ্রি দাশ। ওই মোবাইল ফোনে কথোপকথনের ৬ মিনিট ৯ সেকেন্ডের কল রেকর্ড রয়েছে ওই নারীর কাছে।

এ বিষয়ে হিমাদ্রি দাশ মোবাইল ফোনের রেকর্ডের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি অস্বীকার করতাছি না। আমারে মিস কল দিছে। পিছনের দরজা ভাইঙ্গা আমি রাতে ধর্ষণ করছি না। কয়দিন আগে হের জামাইরে বাইন্ধা নিতগা চায় কিস্তির লাগি। আমি ১ হাজার টাকা দিছি। আমার টাকা এখনো দিছে না। আমি দিলীপের সাইডে কাজ করি। অখন কেউ যদি মিছা কথা কয় তাইলে আমি কিতা করতাম কইন। গত শ্রাবণ মাসে হিমাদ্রি দাশের স্ত্রী মারা গেছেন বলে জানায় হিমাদ্রি দাশ।

তবে ওই নারী মিস কলের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি মিসকল দেইনি। এইডা তো আমার মোবাইলেই আছে। আমারে কইছে তুই যদি এখন চিল্লাছ তাইলে আমি কইমু তুই আমারে ফোন দিয়া আনছস। আমার স্বামী সেদিন বাড়িতে ছিল না। দীর্ঘদিন ধরেই আমার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব দিত হিমাদ্রি দাশ।

এ ব্যাপারে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি কদিন থানার বাইরে ছিলাম। এখন আমি হবিগঞ্জ থেকে শাল্লায় আসছি। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তবে তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়