নতুন শিক্ষাক্রম বুঝতে সমস্যা

আগের সংবাদ

ভোটের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপসকামিতা

পরের সংবাদ

শিক্ষাব্যবস্থা হোক বাস্তবমুখী

মো. আনোয়ার হোসেন

শিক্ষার্থী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের শিক্ষার ধরন যতটা সহজ করা হয়েছে, ততটা বাস্তবমুখী করা হয়নি। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রতি উদাসীন। শিক্ষা এখানে আনন্দের উপকরণ নয়, বরং একটা র‌্যাট রেসের নাম। আমাদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগে এমন দক্ষতাপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কিন্তু ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছরের শিক্ষাজীবনেও স্কুল বা কলেজ শেখাতে পারে না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ব্যর্থ। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সিট গলধঃকরণের নালিপথ হিসেবে কাজ করেন। এতে অনেক পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করেও অশ্বডিম্ব প্রসব করে শিক্ষার্থীরা। ভালো প্রেজেন্টেশন, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এক্সেলের কাজ, গুছিয়ে ই-মেইল লেখা এবং দ্রুত টাইপিং আমাদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলো নিজেকে আলাদাভাবে শিখতে হয়। কুইক লার্নিং এবিলিটি ও টিম ওয়ার্ক নিয়ে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো কাজ করা হয় না। এ কারণে অনার্স বা মাস্টার্স শেষে একজন শিক্ষার্থী চাকরির মহাসাগরে নামলে নিজেকে সে আবিষ্কার করে নিঃস্ব-রিক্ত অবস্থায়।
মেধাবীদের আমরা দেশে ধরে রাখতে পারি না। উচ্চ শিক্ষার্থে তারা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে, পাচার হচ্ছে মেধা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও নতুন নতুন আবিষ্কার হবে, হবে মেধাবীদের মিলনমেলা। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ থাকে, এর থেকে বেশি টাকা একেকটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর অতিথি আপ্যায়নে খরচ করে। রাজনীতিতে কলুষিত হয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। হলের আসন পেতে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে করতে হয় দহরম-মহরম সম্পর্ক। ছাত্রদের কথা বাদই থাকুক। শিক্ষকরা পর্যন্ত দলাদলিতে জড়িয়ে আছে সেই নব্বইয়ের দশক থেকে। উচ্চশিক্ষা মূলত গবেষণাধর্মী শিক্ষা। কিন্তু উচ্চশিক্ষাতে গবেষণা নেই বললেই চলে। গবেষণার জায়গায় স্থান পেয়েছে সরকারি চাকরিপ্রাপ্তির লক্ষ্যে পড়াশোনা। বিষয়-জ্ঞান অর্জন থেকে শিক্ষার্থীরা চলে যাচ্ছে বহুদূরে। শিক্ষা খাতে পরিবারের ব্যয়ই বেশি। ফলে স্কলারশিপ ব্যতীত নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। ইউনেস্কোর গেøাবাল এডুকেশন মনিটরিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার, নেপাল মিয়ানমার যেখানে ৮০-৯০ শতাংশ প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছে সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র ৫০ শতাংশ। আমাদের চারপাশে প্রচুর শিক্ষিত মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকের অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি আছে, গ্রেড পয়েন্টও যথেষ্ট ভালো। কিন্তু তারা চাকরি পাচ্ছেন না। কারণ চাকরির বাজারে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার দক্ষতা তাদের নেই। শিক্ষাঙ্গনের জ্ঞান তারা আহরণ করেছেন ঠিকই কিন্তু সেই জ্ঞান তারা কোনো কাজে লাগাতে পারছেন না। শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটা বাজে ব্যাপার হচ্ছে, শুধু চাকরি পাওয়াটাকে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলা।
শিক্ষা পণ্যের উচ্চ মূল্য, বাজেটে শিক্ষা খাত উপেক্ষিত থাকা, গবেষণা কার্যক্রমে স্থবিরতা, অবহেলিত বিজ্ঞান শিক্ষা, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, দলীয়করণ, বাড়তি ফি আদায়, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন, দেশি-বিদেশি প্রেসক্রিপশনে শিক্ষা খাতকে আবদ্ধ করা, পশ্চাৎপদ মাদ্রাসা শিক্ষা, সার্টিফিকেট বাণিজ্য এ রকম আরো হাজারো সমস্যায় জর্জরিত আমাদের গোটা শিক্ষাব্যবস্থা। এগুলো কাটিয়ে ওঠা এখন সময়ের দাবি। গত ১৬ জানুয়ারি অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা জেএসসি এবং জেডিসি বাতিলের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি দেয়া নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে দৃঢ় কাঠামোয় সাজাতে হবে। এতগুলো মিডিয়াম বা শিক্ষা পদ্ধতি না রেখে সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা মাদ্রাসা কারিকুলাম নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হবে। কিন্তু আজ থেকেও যদি কাজ শুরু হয় তাহলে ২০-২৫ বছর পর এ দেশের প্রেক্ষাপট বদলে যাবে। কারণ আজ যারা শিক্ষার্থী তারাই জাতির নেতৃত্বে থাকবে। আলোর মশালবাহী অগ্রদূতের ন্যায় তারাই এগিয়ে নেবে দেশ ও বিশ্বকে।

মো. আনোয়ার হোসেন : শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়