চালু হলো পল্লবী স্টেশন, থামছে মেট্রোরেল

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আজ

পরের সংবাদ

যে কারণে সরে যাচ্ছেন জেলেনস্কির বিশ্বস্তরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন পথে হাঁটতে নারাজ জার্মানি

দিন দিন কঠিন হয়ে আসছে ইউক্রেনের চলার পথ। ট্যাংক নিয়ে জার্মান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠেলাঠেলির অবসান হয়নি। এর মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনেস্কির অন্যতম মিত্র প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপপ্রধানসহ জেলেনস্কি সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে আরো দুজন উপমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ পদত্যাগকৃতরা কমিউনিটি এবং টেরিটরিস উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেন।

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপপ্রধান কিরিলো তিমোশেঙ্কো দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে জেলেনস্কিকে অনুরোধ করেছেন।

গার্ডিয়ানের খবর অনুসারে, এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সহযোগী কিরিলো তিমোশেঙ্কো ও উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিয়াচেস্লাভ সাপোভালোভ পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া সরকারি কৌঁসুলি দপ্তরের

একজন ডেপুটিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। খবর এসেছে, ৫টি অঞ্চল দনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া, সুমি, কিয়েভ এবং খেরসনের আঞ্চলিক গভর্নররা পদত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সেনাবাহিনী উচ্চমূল্যে খাদ্যদ্রব্য কিনে মজুত করে রেখেছে। দেশটির একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে খাদ্যে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনের রাজনীতিকদের জীবনে দুর্নীতি প্রাত্যহিক বিষয় ছিল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২১ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ১৮০টি দেশের মধ্যে দুর্নীতিতে ইউক্রেনের অবস্থান ছিল ১২২তম। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে কিরিলো তিমোশেঙ্কো লিখেছেন, আমি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ধন্যবাদ জানাই, আমার প্রতি আস্থার জন্য এবং প্রতিদিন এবং প্রতি মিনিটে ভালো কাজ করার সুযোগের জন্য। তবে ঠিক কী কারণে তিমোশেঙ্কো পদত্যাগ করছেন তার বিস্তারিত কিছু জানাননি।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত টানা ৩৩৫ দিনের মতো চলছে দেশ দুটির সংঘাত। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত আরো বেড়েছে।
ট্যাংক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটতে নারাজ জার্মানি : আমেরিকা এবং ইউরোপের একাধিক দেশের অনুরোধ সত্ত্বেও জার্মানি তাদের তৈরি লেপার্ড ট্যাঙ্ক কিয়েভে পাঠাতে রাজি হয়নি। সামরিক এবং কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে মস্কোর বিষ-নজরে পড়ার ভয়েই বার্লিনের এই সাবধানী নীতি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও রাশিয়ার গ্যাসের উপর জার্মানির নির্ভরতা রয়েছে যথেষ্টই। তাই ন্যাটোর সদস্য দেশ হয়েও ইউক্রেনকে লেপার্ড সরবরাহে এখনো সম্মত হয়নি তারা। শুক্রবার জার্মানির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাদের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলে ইউক্রেনে লেপার্ড পাঠানো যাবে।

ইউরোপ জুড়ে ন্যাটো বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক লেপার্ড রয়েছে। ইউক্রেন সেনার পক্ষে এই ট্যাঙ্ক উপযুক্ত হত বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। লেপার্ড হাতে পেলে ভলোদিমির জেলেনস্কির বাহিনীর পক্ষে রুশ টি-৯০ ট্যাঙ্কের মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে।

অনেকদিন ধরে মিত্রদের ভারি অস্ত্রের জন্য চাপ দিচ্ছে কিয়েভ। এদিকে পোল্যান্ড বলেছে, তারা অনুমোদন ছাড়াই ইউক্রেনে জার্মানির তৈরি লেপার্ড ট্যাঙ্ক পাঠাতে ইচ্ছুক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে প্রথমে বার্লিনের কাছ থেকে অনুমতি চাইবে। বার্লিন ট্যাঙ্ক ইউক্রেনে পাঠানোর অনুমতি দিলেই তা পাঠানো সম্ভব হবে। এ ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বার্লিন।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরায়েকি সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অনুমোদন চাইব।’ এমনকি যদি আমরা শেষ পর্যন্ত এই ধরনের অনুমোদন নাও পাই, তবে আমরা যেভাবেই হোক দেশগুলোর একটি ছোট জোটের মাধ্যমে হলেও আমাদের ট্যাঙ্কগুলো ইউক্রেনকে দেব। এমনকি জার্মানি সেই জোটে না থাকলেও তা দেয়া হবে।

পোলিশ সরকারের মুখপাত্র পিওর মুলার পরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ রয়েছে এবং আমরা অবশ্যই আগামী দিনে তা বাস্তবায়ন করব। এদিকে সোভিয়েত যুগের ট্যাঙ্ক ব্যবহারকারি ইউক্রেন বলেছে, বিশ্বের সিদ্ধান্তহীনতা কেবল আমাদের আরো বেশি মানুষকে হত্যা করছে।

পোল্যান্ড এই মাসের গোড়ার দিকে ঘোষণা করেছে, তারা কিয়েভে ১৪টি লেপার্ড ট্যাঙ্ক সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে স্থানান্তর অনুমোদনের জন্য বার্লিনের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট বিবৃতির অপেক্ষা করছে। বার্লিন সব মিত্রদের একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেছে।

চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের মুখপাত্র সোমবার সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন যে সরকার ট্যাঙ্কগুলোর স্থানান্তরকে বাতিল করেনি, তবে তিনি বলেছেন যে, এখনো এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানি সংঘাতের প্রশ্নে সব সময় সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে। জার্মান আইনে যেসব দেশ তার অস্ত্র ক্রয় করে তাদের হস্তান্তর করার আগে অনুমোদন চাইতে হবে। জার্মানির তৈরি অস্ত্রগুলিকে জার্মানির স্বার্থের বিরুদ্ধে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার জন্যই এ আইন।

এমকে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়