নেত্রকোণায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী

আগের সংবাদ

পোশাক শিল্পের অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রচারে সেডেক্সকে অনুরোধ

পরের সংবাদ

বিভাগীয় শহরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ ৪ ফেব্রুয়ারি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৭:০৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি ও সরকারের দমন, পীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে, দলীয় নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে এ সমাবেশ করে দলটি। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম নজরুল সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমানুল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের ইতিহাস। সন্ত্রাস কায়েম করে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজ ৫০ বছর পরও চিৎকার করে বলতে হচ্ছে, ‘গণতন্ত্র চাই, ভোটাধিকার চাই’। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা যখনই কর্মসূচি দেই, তখনই আওয়ামী লীগ একটা পাল্টা কর্মসূচি দেয়। তাদের পার্টি অফিসের সামনে এখনো সমাবেশ চলছে। তাদের মধ্যে এত আস্থার অভাব আছে। এত ভয়, বিএনপির প্রোগ্রাম করলে না জানি কী হয়ে যায়। এই ভয়ে পাল্টা কর্মসূচি দেয় তারা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশ্ন তুলে ফখরুল বলেন,কোন রাষ্ট্রপতি? তিনি কি কিছু করতে পারেন। তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর বাইরে যেতে পারেন। এ জন্য আমরা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য এনেছি। তিনি বলেন,আজকে এই এ সরকার সচেতন ভাবে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। একটা নির্বাচনে তামাশা তৈরি করেছে । স্পষ্ট বলতে চাই এই ‘তামাশার সরকার’ আর নির্বাচন করতে হবে। তাই এই সরকারকে সরাতে হবে।

আওয়ামী লীগের সময় হয়ে গেছে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা। এখন দেশের মানুষ ডিম খেয়েও বাঁচতে পারছে না। গ্যাসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। নিত্য পণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষ আর এই সরকারের শোষণ নিতে পারছে না।

ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগ সরকারে হাতে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে । বাকশাল প্রতিষ্ঠা হয়েছে।দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। দেশের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। দেশের পত্রিকা গুলো বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। সেদিন বাকশাল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর আমাদের দেশের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী সেদিন আওয়ামী লীগ সরকারকে সাপোর্ট (সমর্থন) দিয়েছিল।

আরো পড়ুন: বিএনপিকে প্রতিরোধে শাহবাগে পাল্টা কর্মসূচি ছাত্রলীগের

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্র বিশ্বাসী নয়। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু কাজ করে উল্টো। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের। আওয়ামী লীগের ইতিহাস অবৈধ ক্ষমতা দখলের। আজ অধিকারের জন্য, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের সরকারের হাতে প্রাণ দিচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের প্রাণ দিতে হয়েছে অসংখ্য। পাঠ্যপুস্তকে আমাদের ঐতিহ্যবিরোধী বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেগুলো আমাদের ঐতিহ্যবিরোধী সংস্কৃতবিরোধী সেগুলো বাতিল করে নতুন করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে সন্ত্রাসের ইতিহাস। সন্ত্রাস কায়েম করে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজ ৫০ বছর পরও চিৎকার করে বলতে হচ্ছে, ‘গণতন্ত্র চাই, ভোটাধিকার চাই’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের মানুষ এই সরকারকে বলতে চায়, আপনারা (সরকার) জনগণের সঙ্গে প্রতারিত করছেন। ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির নাকি গণতন্ত্রের কথা বলার অধিকার নেই। অথচ আওয়ামী লীগই গণতন্ত্র হত্যা করেছে। সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ৬০০ গুম, এক হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে। সরকার শুধু চাপাবাজি করে’।

তিনি আরো বলেন,যেখানে আওয়ামী লীগ, সেখানে তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী, যেখানে বিএনপি সেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী। সরকারকে বিদায় জানাতে হবে। নয়তো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।

মোশাররফ বলেন,বর্তমান প্রজন্মকে আমরা স্মরণ করে দিতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকার এই দিনে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এদেশের সব দেশকে রাজনীতি করার স্বাধীনতা ও অধিকার দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ।অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করছে। আর জিয়াউর রহমান দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন,আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটিয়েছে। ২০১৮ সালে কোন ভোট হয় নাই। গায়ের জোরে সরকার ক্ষমতা দখল করে। যারা আওয়ামী লীগ তারা দেশে বারবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে আর বিএনপি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে পুনরুদ্ধার করেছে। আজকে দেশে গণতন্ত্র নাই বলে দেশের মানবাধিকার নাই। আজকে আমাদের নেতাকর্মীদের শপথ করতে হবে দশ দফার ভিত্তিতে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ভারতে ছিলেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি দাবি করলেও কোনো লাভ হবে না। আওয়ামী লীগ কখনো মুক্তিযুদ্ধের স পক্ষের শক্তি হতে পারে না। এ দেশে মুক্তি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। তিনিই দেশকে মুক্তি করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করে না। বিএনপি রাজনীতি করে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ করো দাসত্ব করে না। আমরা কারাগার থেকে মুক্তি চাই না। আমরা আমাদের চিন্তার মুক্তি চাই। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে। এই সরকার মেগা উন্নয়নের নামে মেঘা দুর্নীতি করে যাচ্ছে। এই সরকার ভোটকে ভয় পায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের বাকশালের চরিত্র এখনো বদলাইনি। এখনো সেই আগের মতো নির্যাতন ধন সম্পদ লুট সবই করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের চরিত্র এমনই তাদের বদলানোর সুযোগ নেই। বেইমানদের চরিত্র একই রকমের থাকে।

তিনি বলেন,বাংলাদেশকে মুক্তির সন্ধান দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়া উর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না। দেশকে মুক্তির বার্তা আগেও বিএনপি দিয়েছিল আবারও সেই বিএনপির অপেক্ষায় মুক্তি অপেক্ষা করছে। আজকে আবার আমাদেরকে শপথ করতে হবে হাসিনার কারাগার ভেঙে দিতে হবে। হাসিনার পতন নিশ্চিত করতে হবে।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়