সক্ষমতা আছে বলেই বাংলাদেশ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে

আগের সংবাদ

দেশে ঋণখেলাপি ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ জন

পরের সংবাদ

বাস থেকে ফেলে যাত্রী হত্যা : সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ হবে কখন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সড়কে একের পর এক মানুষ মারা যাচ্ছে, একে নিছক দুর্ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কেউ ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটালে তা হত্যার শামিল। গত রবিবার রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বেপরোয়া বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন বেসরকারি নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাদিয়া আক্তার। নাদিয়ার মৃত্যুতে তার বাবা-মা ও স্বজনদের বুকভরা স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে, যা মেনে নেয়া কষ্টকর। এর আগেও রাজধানীতে বাসের চাকায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। ভাড়া বচসায় গত পাঁচ বছরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এবং পিটিয়ে ১৬ যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। দুজন পরিবহন শ্রমিকও খুন হয়েছেন যাত্রীদের ধাক্কা ও পিটুনিতে। ৩২টি ধাক্কার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো ২০ জন যাত্রী এবং একজন পরিবহন শ্রমিক। যানবাহন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলার ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ২০২২ সালে। এতে চারজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। গত রবিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীকে এ প্রতিবেদন দেয় যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সড়কে এমন নৈরাজ্যের শেষ কোথায়? নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালের আগস্টে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাস করা হয়। কিন্তু গত সাড়ে ৪ বছরেও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বিধিমালা প্রণীত হয়নি। আইনের কিছু কিছু ধারা আংশিক বাস্তবায়ন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কের সার্বিক অবস্থার এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। সড়কে অব্যবস্থাপনার করুণ পরিণতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেপরোয়া বাস দুর্ঘটনায় কেউ হাত কিংবা পা হারাচ্ছে আবার কারো কোমর ভাঙছে। বিশেষ করে রাজধানীতে বাস চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে এ নৈরাজ্য চলতে দেয়া যায় না। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু একটি জাতীয় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের জন্য সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং দুর্ঘটনাকেন্দ্রিক অপরাধের বিচার-শাস্তি প্রদানের জন্য একটি কার্যকর ও ফলপ্রসূ আইনের প্রত্যাশা অনেক পুরনো। কিন্তু কোনো সরকার এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না। ২০১৮ সালে রাজধানীতে এক বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদের চাপে পুরনো আইন সংশোধন করে অপরাধের দণ্ডের মাত্রা বাড়ানোসহ কিছু কঠোরতা আরোপ করা হয়। আইনের প্রয়োগে বাধা নিয়ে প্রভাবশালীদের ভূমিকা লক্ষণীয়। পরিবহন খাত এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক যোগাযোগ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয় এখন পরিবহনে যুক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এজন্য সময়ের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন আইনে যে বিষয়গুলো সংযোজিত হয়েছে, তার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি মনে করছি। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সমাধানের অযোগ্য কোনো বিষয় নয়। এ জন্য দরকার ইতিবাচক চিন্তা ও সমন্বিত পদক্ষেপ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়