ডিএমপির ৫ এডিসিকে বদলি

আগের সংবাদ

চাকরিতে নিয়োগ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে

পরের সংবাদ

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরেও কাটেনি চিকিৎসক সংকট

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ১১:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর পার হলেও চিকিৎসক সংকট রয়েই গেছে। ফলে মাত্র ১৮২ জন চিকিৎসক দিয়ে এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগীর চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলছে। ধারণ ক্ষমতার তিনগুণের বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে প্রতিনিয়ত রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে প্রতিদিনই ঘটছে বাদানুবা, হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপ এত বেশি যে, ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। ওয়ার্ডে শয্যা সংকুলান না হওয়ায় হাঁটার জায়গায় রোগীর বিছানা করে দেয়া হয়েছে। এতে রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। চিকিৎসক সংকটের মধ্যে কোনোরকম চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এ অঞ্চলের রোগীরা।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স নিপা আক্তার বলেন, ওয়ার্ডে মোট ৭২টি বেড রয়েছে। সেখানে ৭২ বেডের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২২০ থেকে ২৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ঝালকাঠির শাফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ভালো চিকিৎসার আশায় ঝালকাঠি থেকে বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি হইছি, কিন্তু চার দিন পার হলেও বড় ডাক্তারের দেখা পাইছি মাত্র একদিন। এছাড়া সব সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আইসা দেখে।

একই অভিযোগ আমতলী থেকে গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা নিতে আসা মিনারা বেগমের। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার ছাড়া কোনো বড় ডাক্তার আসেনি দেখতে। এছাড়াও হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর চাপ দ্বিগুণ থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে হাজারের বেশি রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হয়। পরে হাসপাতালটিকে ৫শ’ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সবশেষ ২০১৩ সালে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের সংখ্যা। বর্তমানে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের কার্যক্রম নতুন ভবনে চালু করা হলেও বাড়ানো হয়নি চিকিৎসক। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠাকালীন ২২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছর পরে এসেও সেই জনবলের পূর্ণতা পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী পরিচালক, উপ-পরিচালক, আবাসিক চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ ২২৪ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেই পদের বিপরীতে সবশেষ তথ্য অনুযায়ী চিকিৎসক আছেন মাত্র ১৮২ জন। ৪২ জন চিকিৎসকের পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা সূত্রে জানা গেছে, হাজার শয্যার বিপরীতে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেয়। গত ২২ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২১৫৬ জন। এর আগে ২১ জানুয়ারি ভর্তি ছিল ২১২৩ জন। যা শীতের সময় কিছুটা কম থাকলেও গীষ্মকালে আরো বেড়ে যায়। এত রোগীর বিপরীতে মাত্র ১৮২ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

হাসপাতাল সূত্রমতে, চিকিৎসকদের ৪২টি পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে উপপরিচালকের একটি পদের একটিই শূন্য রয়েছে। ডেন্টালের জুনিয়র কনসালটেন্টের একটি পদ শূন্য। আবাসিক সার্জন ৮টির মধ্যে ১টি পদ শূন্য। রেজিস্ট্রার ৩৩টি পদের মধ্যে ২১ জন থাকলেও ১২টি পদ এখনো শূন্য। সহকারী রেজিস্ট্রারের ৬৬টি পদের মধ্যে ৪৫ জন থাকলেও শূন্য আছে ২১টি পদ। ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ১০টি পদের মধ্যে ৯ জন থাকলেও ১টি পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়াও মেডিকেল অফিসার (বহি.) বিভাগ, এমও সহকারী সার্জন, এম ওবিটিসি, এমও রেডিওলজিস্ট, এমও স্বতন্ত্র, রক্তরোগ, এমও রেডিওথেরাপিস্ট, ডেন্টাল সার্জন ৪৬টি পদের মধ্যে ৪৪ জন থাকলেও এখনো শূন্য রয়েছে ২টি পদ। চারটি ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ইনডোর মেডিকেল কর্মকর্তা (আইএমও) ২০টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য। চিকিৎসকের ৪২টি শূন্য পদের ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই রোগী ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ডাক্তার আসেনি।

দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালে তীব্র চিকিৎসক সংকট চলছে বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম, হাসপাতালে যে সংখ্যক চিকিৎসক রয়েছেন তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাড়ানো হয়নি চিকিৎসক। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন ৫০০ রোগীর। এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫শ থেকে ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সব উপজেলার রোগীই এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে অনেক সময় চাপ সামলাতে না পেরে রোগীকে ঢাকায় রেফার করা হয়। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশা দিয়েছেন।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়