লোপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে কর্তৃত্ববাদী সরকার

আগের সংবাদ

হল কর্মচারীর মাথা ফাটিয়ে দিলেন ঢাবি শিক্ষার্থী

পরের সংবাদ

তাহিরপুরে কয়লার পর এবার উদ্ধার চোরাই চুনাপাথর

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ২:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ , ২:৪৫ অপরাহ্ণ

চোর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি চারাগাও শুল্ক স্টেশনের তিন শতাধিক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাও শুল্ক স্টেশন থেকে এবার ১০০ মে.টন এসলিকৃত চোরাই চুনাপাথর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে বারোটায় দিকে এই চুনাপাথর উদ্ধার করা হয়।

এর আগে থেকে মঙ্গলবার দুপুরে চারাগাও শুল্ক স্টেশন আমদানিকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় দশ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪০ মেট্রিক টন এলসিকৃত চোরাই কয়লা উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, বুধবার ২৫ জানুয়ারি চারগাও শুল্ক স্টেশনের আমদানিকারক আব্দুল কুদ্দুস, হারুনুর রশিদ, আয়নাল হক ও ফজলুল হকের নেতৃত্বে একদল ব্যবসায়ী খবর পান যে শুল্ক স্টেশন এলাকা সংলগ্ন সংশার হাওরের পাথরঘাট এলাকায় চোরাই চুনাপাথর নৌকায় লোড করা হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে আমদানিকারকগণ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সংশারপাড় গ্রামের আবুল বারেকের ছেলে আব্দুল কাদিরের মাধ্যমে পরিবহণ করা ১০০ মে.টন চুনাপাথর জব্দ করেন।

আমদানিকারকরা ভোরের কাগজকে জানান, আব্দুল কাদির কোনো আমদানিকারক কিংবা ব্যবসায়ী নন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন চুনাপাথর জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমদানিকারকগণ বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আজ বুধবার দৈনিক ভোরের কাগজের প্রিন্ট ভার্সনের ৭ নং পাতায় “চাড়াগাও শুল্ক স্টেশন আমদানিকারকরা চোর সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাও শুল্ক স্টেশনের তিন শতাধিক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকার একটি চিহ্নিত কয়লা চোর সিন্ডিকেটের কাছে।

শুল্ক স্টেশনে পরিবহণ করার সময় কয়লা চুরি বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড়ছড়া ও চারাগাও শুল্ক স্টেশনে কয়লা পরিবহন বন্ধের ডাক দেয়া হয়।

পরে এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল এগারোটায় গ্রুপের সভাপতি হাজী আলকাছ উদ্দিন খন্দকার উপজেলার চারাগাও শুল্ক স্টেশনের বৈঠাখালী নদী তীরে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, লোড, আনলোড শ্রমিক ও শ্রমিক সরর্দারদের নিয়ে কয়লা চুরি বন্ধে এক আলোচনা সভায় মিলিত হন।

সভায় বক্তব্য রাখেন, গ্রুপের উপদেষ্টা ও তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জিয়াউল হক, তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খন্দার লিটন, গ্রুপের সহসভাপতি হাজী ফরিদ গাজী, কোষাধক্ষ হাজী জাহের আলী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের, প্রচার সম্পাদক হাজি ছিদ্দিক মিয়া, উত্তর শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আমদানিকারক আলী হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী এম ইউনুছ আলী, গ্রুপের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ, খসরুল আলম, রনধীর পাল বেনু, হাজী আব্দুল কুদ্দুস, হাজী আব্দুস সামাদ মুন্সী, আব্দুল কুদ্দুস, আব্দুল খালেক, গ্রুপের সচিব রাজেশ তালুকদার, আলাই সরর্দার প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে চারাগাও শুল্ক স্টেশনের একটি চিহ্নিত কয়লা চোর সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে শুল্ক স্টেশনের, বছরে কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে আমদানিকারক ও এখানে আসা ব্যবসায়ীদের।

এ চক্রটি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে শুল্ক স্টেশনে গত কয়েক বছর ধরে কয়লা পরিবহনের সময় কয়লা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললে রাতের আঁধারে তাদের বাহিনী দিয়ে নির্যাতনসহ নানা ধরণের হয়রানি করা হয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, এ চক্রটি শুধু কয়লা চুরি করেই ক্ষান্ত হয়না তারা চোরাইকৃত কয়লা অন্য কাউকে কিনতে দেয়না। শুধুমাত্র তারাই কিনতে পারবে চোরাইকৃত এসব কয়লা।

চারাগাও শুল্ক স্টেশনে চুরির কারণে দিন দিন আমদানি রপ্তানি কমে যাচ্ছে। কারণ আমদানিকারক ও ব্যাবসায়ীদের চোখের সামনেই এক শ্রেণির গরীব অসহায় শ্রমিকদের দিয়ে এ সিন্ডিকেট কয়লা চুরি করালেও কেউ এর প্রতিবাদ করার সাহস পায়না।

এসব বিষয়ের উপর জোড়ালো প্রতিবাদ করে চারাগাও শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেন আমদানিকারকগণ।

সভা শেষে বৈঠাখালী থেকে ফেরার পথে আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার, অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেখার হেসেন, বিশিষ্ট আমদানিকারক জিয়াউল হকের সহযোগিতায় চুরি করে বিভিন্ন যায়গায় স্তুপ করে রাখা ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪ মে.টন চোরাই কয়লা জব্দ করা হয়।

এরপর কয়লা চুরি প্রতিরোধে করণীয় বিষয় নিয়ে দুপুরে চারাগাও শুল্ক স্টেশনের তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের শাখা কার্যালয়ে আবারো বেঠকে বসেন নেতৃবৃন্দ। ব্যবসায়ীরা কয়লা চুরির সাথে জড়িত রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের উপদেষ্টা হাজী আবুল হোসেন খান, সভাপতি হাজী আলকাছ উদ্দিন খন্দকার, অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, আজকের পর থেকে কোন কয়লা চুরির ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বহন করবে কয়লা পরিবহনের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সর্দারগণ। এবং যেখানে যার দখলেই চোরাই কয়লা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনজে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়