যে কোনো সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বিশ্ব ব্যাংক

আগের সংবাদ

নতুন কারিকুলামে বিজ্ঞান শিক্ষা

পরের সংবাদ

১২৬তম জন্মবার্ষিকী : নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২৩ , ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

ভারতীয় রাজনীতিতে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দল ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ এর প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত বিপ্লবী রাজনীতিবিদ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও আবেগের নাম। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্য ধারার প্রবক্তা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন না, কলকাতা পৌরসভার মেয়র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি, পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সব ক্ষেত্রেই তিনি তার নিজস্ব চিন্তাধারা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে যান। নেতাজি স্বপ্ন দেখতেন ঐক্যবদ্ধ ভারতের। আদর্শ ছিল হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈন সব পরিচয়কে ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় পরিচয়ে চর্চিত ও জাগ্রত করা। সারাজীবন নিজের সুখ-বৈভব ত্যাগ করে দেশের কল্যাণে নিয়োজিত থেকে গোটা ভারত উপমহাদেশকে বিদেশি শাসনের নাগপাশ থেকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে দেশ ছেড়ে বিদেশেও পাড়ি দিয়েছেন এবং নিজস্ব বাহিনী গঠন করে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধও করেছেন। নিজের সুখ-চিন্তা বিসর্জন দিয়ে জীবনকে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতা কীভাবে ছিনিয়ে আনতে হয়, তা শিখিয়ে গেছেন নেতাজি।
স্বাধীনতা কী জিনিস বা তার অনুভূতি কতটা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ, তা তিনি ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়েই প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি লক্ষ্য করেন, ব্রিটিশরা যেসব অধিকার অনায়াসে ভোগ করেন, ভারতীয়রা তা কল্পনাও করতে পারে না। তিনি বুঝতে পারলেন, পশ্চাদপদ ভারতীয়দের জাগাতে না পারলে তাদের মুক্তি কোনোদিন আসবে না এবং জাগাতে হলে ভারতবাসীকে স্বাধীনতার সুফল বা স্বাধীন দেশের সুবিধা সম্পর্কে বোঝাতে হবে। মূলত, এ লক্ষ্য নিয়েই ১৯২১ সালে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন অত্যন্ত প্রখর মেধাবী সুভাষ চন্দ্র বসু এবং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, ভারতকে ব্রিটিশদের কবল থেকে মুক্ত করবেন। ছোটবেলা থেকেই মূলত, নেতাজি নীরবে গড়ে উঠেছিলেন। অত্যন্ত ব্যক্তিত্বময়ী মা প্রভাবতী দেবীর স্নেহ-মমতা ও শাসনে ছোট্ট সুভাষের উন্নত চরিত্র গঠন শুরু হয়। পারিবারিক পরিমণ্ডলের বাইরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী গ্রামেরই কৃতী সন্তান দর্শনের শিক্ষক ঋষিতুল্য বেনীমাধব দাস সুভাষ চন্দ্র বসুকে প্রকৃতির প্রতি প্রেমের শিক্ষা দেন। কৈশোরে এক মন এক ধ্যানে স্বামী বিবেকানন্দের লেখা সব বই পড়ে স্বামীজির একনিষ্ঠ ভক্ত হয়ে যান। সেখান থেকে পাওয়া জ্ঞান তার সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠে। তরুণ বয়সে পান ‘দেশবন্ধু’ চিত্তরঞ্জন দাশের মতো তেজস্বী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে। তাই মহাত্মা গান্ধীর নরমপন্থি নীতিতে হতাশ হলেও চিত্তরঞ্জন দাশের দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা, ত্যাগী মনোভাব ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দর্শন দেখে তিনি আশার আলো দেখতে পান। তারপরই তার রাজনৈতিক গুরু হয়ে ওঠেন চিত্তরঞ্জন দাশ এবং আধ্যাত্মিক গুরু হয়ে ওঠেন স্বামী বিবেকানন্দ।
কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মহাত্মা গান্ধীর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের পর তার নীতির সঙ্গে বিরোধ বাধলে তিনি ১৯৩৯ সালে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ‘ফরোয়ার্ড ব্লক’ গঠন করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সাপ মারতে হলে লাঠির প্রয়োজন। কংগ্রেসের নরমপন্থি নীতি গ্রহণ করে ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ বা ভারতবাসীর মুক্তি কোনোদিন সম্ভব নয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তির হয়ে বিশ্ব দু’ভাগ হয়ে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগান নেতাজি। একদিন ব্রিটিশদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আফগানিস্তান ও ইরান হয়ে কঠোর পরিশ্রম স্বীকার করে জার্মানিতে গিয়ে ব্রিটিশের প্রধান প্রতিপক্ষ হিটলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং হিটলারের পরামর্শে তিনি ইউ-১৮০ নামক জার্মানির সাবমেরিন যোগে মাদাগাসকারের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে পৌঁছান। সেখান থেকে জাপানি সাবমেরিন আই-২৯ এ করে জাপান পৌঁছান। এ জাপানেই মহাবিপ্লবী রাজবিহারী বসু কর্তৃক যুদ্ধবন্দি ভারতীয় সেনাদের নিয়ে গড়ে তোলা বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ গ্রহণ করে জাপানের সহযোগিতায় ব্রিটিশ শাসিত ভারত আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সর্বপ্রথম তার আজাদ হিন্দ ফৌজ মনিপুরের ময়বাং এ ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করে ‘দিল্লি চলো’ অভিযান শুরু করেন। এমন সময় জাপানের হিরোশিমায় ও নাগাসাকিতে আমেরিকা আণবিক বোমা হামলা চালালে জার্মানি-জাপানসহ অক্ষশক্তি আত্মসমর্পণ করে। ফলে অস্ত্রশস্ত্র ও রেশনের অভাবে নেতাজি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এরপর মিত্রবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, জাপানের তাইহোকু বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজি মৃত্যুবরণ করেন। তবে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
‘নেতাজি’ হয়েই ভারতের সাধারণ জনগণের অন্তরের মণিকোঠায় বেঁচে থাকা সুভাষ চন্দ্র বসু পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার বিখ্যাত ‘বসু’ পরিবারের সন্তান হলেও তার জন্ম হয় ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি বাবা জানকীনাথ বসুর কর্মস্থল ওড়িষার কটকে। মহান এ স্বাধীনতা সংগ্রামীর ১২৬তম জন্মদিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

গোপাল নাথ বাবুল, দোহাজারী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়