রূপপুরের যন্ত্রপাতি কার্গো বিমানে আনা হতে পারে

আগের সংবাদ

অঙ্গদান একটি মানবিক শুভ কাজ

পরের সংবাদ

পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড : শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৩ , ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০২৩ , ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ে অশান্তি, রাজনৈতিক হত্যা নিয়মিত ঘটনা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জঙ্গিদের কর্মকাণ্ড। দুর্গম পাহাড়ে জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ এবং তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি নজরদারি করতে হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া তৎপরতা শুরু করেছে। সম্প্রতি এই সংগঠনটি গড়ে উঠেছে। নব্য জঙ্গি সংগঠনটি পার্বত্য এলাকার দুর্গম পাহাড়ে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রশিক্ষণ শিবিরকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি সম্পর্কে রিপোর্ট দিয়েছে। গত বছর অক্টোবরের শেষে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র?্যাব)। তাদের মধ্যে সাতজন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্য এবং তিনজন পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্য। এরপরও জঙ্গি কার্যক্রম পাহাড়ে থেমে নেই। গত কয়েক বছরের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের চিত্র দেখলে বোঝা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমতলের অনেক জায়গায় জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে পেরেছে। কিন্তু পাহাড়ে বিষয়টি তেমন সহজ নয়। অত্যন্ত দুর্গম এবং আত্মগোপনের যথেষ্ট সুযোগ থাকায় প্রশিক্ষণ ও ঘাঁটি হিসেবে পাহাড়কে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ভাবছে জঙ্গিরা। তাছাড়া সেখানকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সমর্থন ও সহযোগিতা পাচ্ছে তারা। জঙ্গিরা অস্ত্র চালনাসহ সশস্ত্র সংগ্রামের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গোপনে পরিচালনার জন্য বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকাকে বেছে নেয়। এজন্য তারা স্থানীয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সহায়তা গ্রহণ করে বলে জানা যায়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তিন পার্বত্য এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছয়টি সন্ত্রাসী সশস্ত্র সংগঠন। এরা হলো- জেএসএস, জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ, গণতান্ত্রিক এমএনপি (মগ গণতান্ত্রিক পার্টি) এবং সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। কেএনএফের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’। এতে করে জঙ্গি ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রতিনিয়ত রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে সবুজ পাহাড়। খুন হচ্ছে একের পর এক। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনোখুনি বাড়ছে। এছাড়া অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ছোট-বড় হামলার ঘটনাও ঘটছে পাহাড়ে। পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেরাই পারস্পরিক দ্ব›েদ্ব লিপ্ত থাকছে সব সময়। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে বন্দুকযুদ্ধ ও অপহরণের ঘটনা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সে সময়কার বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তি বাহিনীর ২ হাজার সশস্ত্র কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অবসান ঘটে অব্যাহত রক্তপাতের। দুঃখজনক ব্যাপার, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখনো এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের দিকে সব সময় বন্দুক তাক করে থাকছে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতার পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়