বউ সেজে ছবি: যা বললেন পূজা চেরি

আগের সংবাদ

প্রোটিয়াদের কাছে বাংলাদেশের কিশোরীরা হারলো

পরের সংবাদ

‘আলী যাকের নতুনের উৎসব’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২১, ২০২৩ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২৩ , ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

সাতটি নতুন নাটক নিয়ে ২০১৯ সালে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় শুরু করেছিল ‘নতুনের উৎসব’। করোনা মহামারির পর আবার এই নাট্যোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তবে বদলে গেছে নাম। নাম বদলে এবার তা হচ্ছে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব’ নামে। বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক আলী যাকের স্মরণে নতুন পাঁচটি নাটক মঞ্চায়ণের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব ২০২৩’।

শনিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় ও মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত ছয়দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসবের আহ্বায়ক সারা যাকের।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেএম খালিদ বলেন, স্বাধীনতাত্তোর কালের অর্জনের মধ্যে এদেশের মঞ্চনাটক অন্যতম। আমাদের সংস্কৃতিতে মঞ্চনাটক নিঃসন্দেহে স্বতন্ত্র একটি অবস্থান তৈরি করেছে। যাদের হাত ধরে এই মঞ্চনাটকের বিকাশ হয়েছে তাদের মধ্যে প্রয়াত নাট্যজন আলী যাকেরের নাম প্রণিধানযোগ্য। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের অন্যতম পথিকৃৎ। সৃজনশীলতায় মগ্ন মঞ্চ অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটির হাত ধরেই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় বাংলা মঞ্চনাটকের মুকুটে যুক্ত করেছে একের পর এক সাফল্যের পালক।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। ছবি: ভোরের কাগজ

মন্ত্রী আরো বলেন, আলী যাকের ছিলেন আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেতা। তার প্রাণবন্ত অভিনয় দেখে সবসময় বিমুগ্ধ হতাম। তিনি বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা মঞ্চনাটকের দলসমূহকে সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতার প্রদানের চেষ্টা করি। কেএম খালিদ বলেন, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তারা কখনো আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করেনি। মন্ত্রী নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়কে প্রয়োজনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নেয়ার অনুরোধ করেন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মঞ্চনাটকের সমৃদ্ধি আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে যখন নিয়মিত মঞ্চনাটকের যাত্রা শুরু করেছিলো নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়, তখন কিন্ত নাগরিক নিঃসঙ্গ ছিলো না। তখন আমরা এক দল অন্য নাট্যদলের হাত ধরে চলেছি। একজন আরেকজনের কাছ থেকে শিখেছি এবং এর মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করেছি।

এবারের উৎসবে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের বরেণ্য চার গুণিজন সৈয়দ শামসুল হক, জিয়া হায়দার, আলী যাকের ও খালেদ খানের নামে ‘নাগরিক সম্মাননা পদক’ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সৈয়দ শামসুল হক সম্মাননা, জিয়া হায়দার সম্মাননা, খালেদ খান সম্মাননা ও আলী যাকের সম্মাননা পেয়েছেন যথাক্রমে নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, সৈয়দ জামিল আহমেদ, মাসুদ আলী খান ও নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চার ৪৫ বছর উদযাপনের প্রাক্কালে নাট্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ি এবারের উৎসবে শুভাশিস সিনহা নির্দেশিত নির্দেশিত ‘রিমান্ড’, অলোক বসু নির্দেশিত ‘দ্য রেসপেক্টফুল প্রস্টিটিউট’, মোহাম্মদ আলী হায়দার নির্দেশিত ‘সখী রঙ্গমালা’, বাকার বকুল নির্দেশিত ‘আদম সুরত’ ও আজাদ আবুল কালাম নির্দেশিত ‘অচলায়তন’, নাগরিকের প্রণোদনা পাওয়া এই পাঁচ নতুন নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে।

২০২০ সালে ২৭ নভেম্বর চিরবিদায় হন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি আলী যাকের।

উৎসব চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়