শিল্প-বাণিজ্য খাতে বাড়ল গ্যাসের দাম : মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা ভোক্তা পর্যায়েও

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক ও আন্তঃধর্মীয় চেতনা

পরের সংবাদ

মাদকের বিস্তার রোধে করণীয়

আফিয়া সুলতানা একা

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৩ , ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২৩ , ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিনিয়রদের প্ররোচনায় অনেক নবীন শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক প্রাপ্তির সহজলভ্যতা থাকায় ক্যাম্পাসেই মিলছে স্বল্পমূল্যে মাদক। তবে একের পর এক ব্যয়বহুল মাদকের সঙ্গে যুক্ত হতে হতে মাদকাসক্ত হয়ে কেউ কেউ হয়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন। পড়াশোনার সঙ্গে বিচ্ছেদও ঘটতে দেখা যায়। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কৌশলে কোকেন, গাঁজা, মদ, মারিজুয়ানা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, প্যাথিডিন, সিসা, সিরিঞ্জের মাধ্যমে নেয়া মাদক, ঘুমের ওষুধ, এলএসডি ইত্যাদি মাদকদ্রব্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও বিস্তার করান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারীরাও এর সঙ্গে জড়িত। বড় ক্যাম্পাসগুলোতে বহিরাগতরাও সন্ধ্যা হলে মাদকের আসর বসায়। মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশই বন্ধুদের প্ররোচনায় শুরু করেন। তারপর প্রাণঘাতী মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ মানসিক সমস্যা, যেমন- হতাশা, একাকিত্ববোধ, বিষণ্নতা, প্রেমে ব্যর্থতা, যা থেকে রেহাই পেতে মাদক সেবন করে। এছাড়াও এন্টি সোশ্যাল পার্সোনালিটি, শৈশবে বিকাশে সমস্যা, পারিবারিক কলহ মাদকাসক্ত হওয়ার জন্য দায়ী।
রাজনৈতিক সিনিয়রদের সাহচর্যে মাদকাসক্তির সঙ্গে অন্যান্য অনৈতিক কাজে নবীনরা জড়িয়ে পড়ে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তির হার অনেক বেশি। ইয়াবায় আসক্তদের ৪০ শতাংশই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। উচ্চবিত্তের সন্তান হওয়ায় তারা স্মার্টনেস হিসেবেই মাদক গ্রহণ করছে। মেয়েদের মাদকাসক্তির প্রধান কারণ পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক না থাকা, বাবা-মার কাছ থেকে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, ছেলে বন্ধুদের সঙ্গ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশে ৪০ লাখ মাদকাসক্তের মধ্যে ৪ লাখ নারী। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশ কিশোর ও তরুণ, ৪৫ শতাংশ বেকার, ৬৫ শতাংশ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট এবং ১৫ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। নারীদের মাধ্যমে মাদক পরিবহন পুরুষের তুলনায় নিরাপদ হওয়ায় অনেক নারী শিক্ষার্থী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে।
মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সর্বপ্রথম প্রতিটি সুস্থ সচেতন ব্যক্তি, পরিবারের ব্যক্তিগত এবং সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মানুভূতি শিক্ষা দেয়া উচিত। সুস্থ বন্ধু-বান্ধবদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের মাদকাসক্তি মাত্রাধিক হলে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাতে হবে। চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে পরিবারের নিবিড় পরিচর্যায় রাখতে হবে যেন পুনঃআসক্ত না হয়। মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি থেকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। কারা মাদকাসক্তির সঙ্গে জড়িত আছে খোঁজ নিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অভিভাবকদের সন্তানদের ওপর নজরদারি, সহমর্মিতা, মনোযোগ রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদকবিরোধী প্রচার, সেমিনারে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যাগুলো নিয়ে পরামর্শ করতে পারে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নিতে নিয়মিত কাউন্সিলিং করতে হবে। নিয়মিত ডোপ টেস্ট শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে অনেকাংশে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটি রাখা যেতে পারে। জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে হবে। নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন সংস্কৃতিমূলক, সেবামূলক, সামাজিক ও খেলাধুলা-বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে যুক্ত করে পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের অবসর সময় বিনোদন ও সেবামূলক কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে মাদক নামের ভয়াবহ ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখা যায়। মাদকাসক্তি রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও সুশীল সমাজসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই গড়ে তুলতে হবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন।

আফিয়া সুলতানা একা : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়