শিশুদের বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই

আগের সংবাদ

শিক্ষাসামগ্রীর দাম সামর্থ্যরে মধ্যে রাখুন

পরের সংবাদ

মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কর্মকাণ্ডে নজরদারি বাড়ান

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ , ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৩ , ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, দেশে যে হারে মাদকের ব্যবহার ও এর নেশাগ্রস্ত লোকজনের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে তাতে গোটা জাতি উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ যা কিছু আসছে নিরাপদে আনার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিরাট অংশ জড়িত হয়ে পড়ায় দেশবাসী মাদক ও মাদকসেবী এবং এর নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিরুপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছে। মাদক এখন সামাজিক ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনের শিকার হয়ে দেশের যুবসমাজ নৈতিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে সমাজের ওপর দেশের শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নতি ও অগ্রতি এবং ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল, তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ যদি মাদকাসক্তিতে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে তাহলে সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ ভয়ঙ্কর অভিশাপ থেকে আমাদের যুবসমাজকে রক্ষা করার কোনো বিকল্প নেই। মাদকাসক্তির ভয়াবহ ধ্বংস থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক সচেতনতা জোরদার করা খুবই দরকার। তবে পাশাপাশি প্রয়োজন সমাজে যা তরুণদের জন্য হতাশার কারণ, সেই অর্থনৈতিক বেকারত্ব দূর করা।
সমাজে মাদকাসক্তির বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়েই পৌঁছেছে; কিন্তু তার চেয়ে বেশি উদ্বেগজনক ঘটনা হচ্ছে মাদকাসক্তি নিরাময়ের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের অনৈতিক ও সমাজ বিধ্বংসী বাণিজ্যিক কার্যকলাপ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী শত শত মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র গড়ে উঠলেও এগুলোর কোনোটারই সরকারিভাবে বৈধ অনুমোদন আছে কি-না সন্দেহ। বেশির ভাগ নিরাময়কেন্দ্রের নেই কোনো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধপত্র এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্স। মূলত অধিকাংশ নিরাময়কেন্দ্র গড়ে উঠেছে মাদকদ্রব্য বেচাকেনার আখড়াগুলোর সন্নিকটে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশের মধ্যেই সার্বক্ষণিক কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা মেডিসিনের ডাক্তার নেই। মাদকাসক্তদের চিকিৎসার পরিষ্কার বিছানাপত্র, লকারসহ খাট, স্যালাইন স্ট্যান্ড, প্যাশেন্ট ট্রলি, স্ট্রেচার বেডপ্যান, ইউরিনাল, ড্রসক্যান, ফ্লেমিটার ও মাস্কসহ অক্সিজেন সিলিন্ডার, ট্রান্সফিউশন সেট, ইলেকট্রিক শকার, স্টেরিলাইজার, সার্জিক্যাল কাঁচি, বেড, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন মালামাল ও যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের জেনারেটর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও বেশির ভাগই নেই। নেই অন্যান্য জীবন রক্ষাকারী উপকরণও। অথচ এসব কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যয়ভার অত্যধিক এমনও অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো নিরাময় কেন্দ্র রোগীর আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে রীতিমতো ব্লাকমেইলিং করে থাকে। মাদকাসক্তি রোগীদের দীর্ঘদিন চিকিৎসার নামে ক্লিনিকে রেখে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা করতে এসে অনেকে সর্বস্বান্ত হয়েছে। চিকিৎসার নামে এসব কেন্দ্রে মাকদাসক্তি বা রোগীদের মারধর ও নির্যাতন করার অনেক অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীরাই জড়িত এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রগুলোকে তারা মাদকের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও ব্যবহার করতে দেখা যায়। নিরাময় কেন্দ্রে দীর্ঘদিন রোগী ধরে রাখার জন্য স্বল্প পরিমাণ মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা পদ্ধতি চালানো হয়ে থাকে। এটিকে সম্পূর্ণ অনৈতিক পদ্ধতি আখ্যায়িত করে দেশের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ পদ্ধতিতে রোগীকে কখনো সুস্থ করা সম্ভব নয়। এই অপরাধের বিস্তার রোধে দেশের প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব ও ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এবং এনজিওগুলোকে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর বিধায় এ ব্যাপারে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোকেও মাদকবিরোধী অভিযানকে তারা যেন তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করে নেন। কারণ মাদকের ভয়াবহতা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দল, ভাষা, শ্রেণি, পেশা, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে আক্রমণ করতে উদ্যত। শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ সবার দায়িত্ব এবং কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধক উত্তম পন্থা। একইভাবে মাদকাসক্তি নিরাময়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে চলছে কি-না সে ব্যাপারে কেন্দ্রগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের তাগিদ দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। দেশব্যাপী যে হারে মাদকসেবার সংখ্যা বাড়ছে তাতে থানাভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কমিটি স্থানীয় কমিশনার, চেয়ারম্যান বা সমাজসেবকদের নিয়ে সরকারিভাবে গঠন করা যেতে পারে। এছাড়া মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ড্রাগ সমস্যা মোকাবিলায় মূল্যবোধের শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মাদকাসক্তদের পরিচর্যা ও সুচিকিৎসা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করার কথা বলা হয়েছে। আসুন বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে সহযোগিতা করি।

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী : ১৭, ফরিদাবাদ-গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়