বিয়ে বাড়িতে চাঁদাবাজি, ৪ হিজড়া কারাগারে

আগের সংবাদ

শূন্য রেখা ছাড়ছে রোহিঙ্গারা

পরের সংবাদ

মহিলা সমিতিতে ‘আঞ্চলিক আর্ট রিইনকার্নেট-৩’ উৎসব

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৩ , ৯:৪২ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২৩ , ৯:৪২ অপরাহ্ণ

বন্ধু সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির (বন্ধু) আয়োজনে রাজধানীতে শুরু হলো তিনদিনের ‘আঞ্চলিক আর্ট রিইনকার্নেট-৩’ শিরোনামের উৎসব। এবারের রিইনকার্নেট-৩ উৎসবে দক্ষিণ-এশিয় অঞ্চলের ছয়টি দেশের ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে নির্মিত ২৫টি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি মিলনায়তনের গ্যালারীতে থাকছে ২৫টি শিল্পকর্ম নিয়ে ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) নাটকসরণীখ্যাত বেইলি রোডের মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন হেলেন লাফেব ও ইউএনএইডস বাংলাদেশের পরিচালক ডা. সায়মা খান। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারপারসন আনিসুল ইসলাম হিরুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সালেহ আহমেদ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কেএম খালিদ বলেন, সৃষ্টির অপার সৌন্দর্যের মাঝে এক বেদনা ঝরা জীবন হিজড়া জনগোষ্ঠীদের। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তারা এখনো অনেক পিছিয়ে। পেশা হিসেবে বাজারে, বাসে, রাস্তায়, দোকানে টাকা তুলে জীবন নির্বাহ করছেন। রাস্তাঘাটে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হচ্ছেন। আমাদের উচিত সমাজে তাদের জায়গা করে দেয়া। পরিবার যখন অবজ্ঞা-অস্বীকার করে তাদের তাড়িয়ে দেয়, তখন আমাদেরই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। এখন সময় এসেছে তাদের সবকিছুতে অধিকার দেয়ার।

তিনি আরো বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ আলোচনা অনুষ্ঠানে আমি তাদের জন্য একটি চেয়ার রাখার ব্যবস্থা করব, যেন তারা সেসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া আমাদের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে ৫-১০ মিনিট এই হিজড়াদের পারফরমেন্সের জন্য বরাদ্দ রাখারও চেষ্টা করবো। যেন তারা মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে। আর তাদের নিয়ে এমন আর্ট ও চলচ্চিত্র উৎসব সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।

হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের যেসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি আছে তাদের কিন্তু তাদের মা-বাবা-পরিবার বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। সমাজসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা সহযোগিতা পায়। অথচ আমাদের হিজড়া জনগোষ্ঠীর যারা আছেন তারা সকল জায়গা থেকে সহযোগিতার পরিবর্তে পায় ঘৃণা। সেটি শুধু সমাজ বা পরিবার থেকে নয়, তাদের আপন জন্মদাতা বাবা-মার কাছ থেকেও। এটি শুধু আমাদের সমাজ বা দেশের জন্য নয়, এটি গোটা মানবজাতির জন্য দুঃসংবাদ। তাই এই জায়গাটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের এই আন্দোলনটা চালিয়ে নিতে হবে ও আমি আশা করি এদেশের তরুণ শিক্ষিত ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন ট্রন্সজেন্ডার ও হিজড়া নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে গঠিত বন্ধু’র সাংস্কৃতিক দল ‘সত্তা’। এই নৃত্যনাট্যে হিজড়াদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়। এরপর নাসির উদ্দিন ইউসুফের ‘আলফা বাংলাদেশ’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়।

ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়