অনলাইন ও পত্রিকার কার্যক্রম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা আছে

আগের সংবাদ

অদ্ভুত পোস্টের পর হাসপাতালে তসলিমা নাসরিন

পরের সংবাদ

চবি শিক্ষক সমিতির দ্বিধাবিভক্ত গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ , ৯:০৬ অপরাহ্ণ

নানামুখী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখা, শিক্ষকদের দাবি দাওয়া আদায়সহ নানা কর্মকাণ্ড ভুলে গেছেন। তারা এখন নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হয়ে প্রকাশ্যে সমাবেশ করছেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি শিক্ষার পরিবেশও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষকগণ সে চিন্তা না করে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে বিষোধাগার, বিবৃতি দিচ্ছেন অহরহ। সর্বশেষ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) সহ-সভাপতি গ্রুপ এবং সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ পৃথক সমাবেশ করে সেই বিভক্তি ও রেষারেষি আরো তীব্র করে তুললেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি) অধ্যাপক আবদুল হক। অপরদিকে সভাপতির এই কর্মসূচিকে অবৈধ উল্লেখ করে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ।

সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২২’ এর ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি প্রুপ। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে পালটা মানববন্ধন করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ।

ছবি: ভোরের কাগজ

সহ-সভাপতি সমর্থিত মানববন্ধনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষকদের জ্যৈষ্ঠতা লঙ্ঘন, সিন্ডিকেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে গড়িমসি এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে দুর্নীতি ও চারুকলা ইন্সটিটিউটে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতাসহ নানা অভিযোগ জানানো হয়।

এ সময় শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদস্য ড. ফণী ভূসন বিশ্বাস, শোয়াইব উদ্দিন হায়দার, সৈয়দা করিমুন্নেছা ও হোসাইন মুহাম্মদ ইউনুস সিরাজীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী, ইঞ্জিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ মোস্তফা ও হলুদ দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. সেকান্দার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম-সমস্যা নিয়ে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরেও প্রশাসন এ নিয়ে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণেই আমাদের বাধ্য হয়ে মানবন্ধনে আসতে হয়েছে। উল্লেখিত বিষয়ে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে যদি সন্তোষজনক সমাধান না আসে তাহলে আমরা পরবর্তীতে আরো বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

অপরদিকে, এই মানববন্ধনের প্রতিবাদ জানিয়ে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে পাল্টা মানববন্ধন করেছে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ সমর্থিত গ্রুপ। এতে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক এস এম জিয়াউল ইসলাম, সদস্য অধ্যাপক ড. নাজনীন নাহার ইসলাম ও ড. শারমিন মুস্তারি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া মানববন্ধনে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, সহকারী প্রক্টরবৃন্দসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এ সমাবেশ থেকে চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষক সমিতির একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আলোচনা এবং আন্দোলনের মাধ্যমে চবি শিক্ষক সমিতি জাতির যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা আলোচনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেই। তারপরে আন্দোলনে যাই। আমি প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে শিক্ষকদের দাবি-দাওয়াগুলো আদায়ের চেষ্টা করেছি। দাবি-দাওয়াগুলো নিয়ে শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী সভায় আলোচনা করে প্রশাসনের নিকট যাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের সহ-সভাপতি যিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তার নেতৃত্বে কয়েকজন সদস্য কোনোভাবেই দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের নিকট যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বারবার বলেছি যে, সাধারণ সভার যে দাবি তা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এরপরেও যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা আন্দোলনে যাব। কিন্তু আমি জানি না কোন উদ্দেশ্যে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বারবার আলোচনাকে এড়িয়ে গেছেন। এমনকি উপাচার্যও তাকে আলোচনার জন্য ডেকেছেন তিনি তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ড. সজীব কুমার আরও বলেন, তিনি (অধ্যাপক আবদুল হক) মূলত সহ-সভাপতি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে তিনি বারবার নিজের সিদ্ধান্তে শিক্ষক সমিতির সভা ডেকেছেন। তিনি আমাদের অনুরোধকে অগ্রাহ্য করে নিজ সিদ্ধান্ত নিয়ে তা আবার প্রেস রিলিজে দিয়ে দিয়েছেন। উনার এই কর্মকান্ডগুলো শিক্ষক সমিতির দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ভুলুন্ঠিত করেছে। আমি এই মানববন্ধনে আসতে চাইনি। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণেই আমাকে আজকে এখানে আসতে হয়েছে।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়