পাটুরিয়া-শরীয়তপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

আগের সংবাদ

৫ মাসে বিদেশ গেছেন চার লক্ষাধিক কর্মী

পরের সংবাদ

ফাইনালে যে কৌশলে খেলবে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ , ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা। ফ্রান্স বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রাখবে নাকি আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর বিশ্বজয়ের হাসি হাসবে? সঙ্গত কারণেই গোটা দুনিয়ায় প্রধান আলোচনার বিষয় কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। যে মহারণ মাঠে গড়াবে আজ রাত ৯টায়। কাতারের রাজধানী দোহার লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ২২তম বিশ্বকাপের এই ফাইনাল জিততে মুখিয়ে আছে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স।

দুদলই তাকিয়ে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা ঘরে তোলার দিকে। ফ্রান্সকে হাতছানি দিচ্ছে দারুণ এক কীর্তি। তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার সুযোগ তাদের সামনে। এই অর্জন আছে আর কেবল ইতালি ও ব্রাজিলের। এবারের ফাইনাল মহারণ উপভোগ্য ও উত্তেজনাপূর্ণ হবে বলেই ধারণা করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। হাইভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে দুদলই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চলেছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে, অলিভার জিরুড, আঁতোয়ান গ্রিজমানদের থামাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি আর্জেন্টিনাও। লিওনেল মেসি, জুলিয়ান আলভারেজ, রদ্রিগো দি পলদের তিন ছকে অনুশীলন করিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রস্তুতিতে যাতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি না থাকে, সে কারণে আলাদা আলাদা কৌশলে ফাইনালের মহড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে কিছুটা দ্ব›েদ্বও ফেলেছেন কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী কোচ। আর্জেন্টিনা কোন ছকে খেলবে, সেটা মাঠে নামার আগ পর্যন্ত বুঝতে পারবে না ফরাসি কোচিং স্টাফ।

স্কালোনি প্রথম ধাপের অনুশীলন করিয়েছেন ৫-৩-২ ছকে। এই কৌশলের শুরুতে তিনি মলিনা ও আকুনিয়াকে উইঙ্গার হিসেবে খেলিয়েছেন। পরে ডি মারিয়াকে তুলে নিয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নামিয়েছেন। তাদেরকে মূলত দুটি কাজ দিয়েছেন। রাইট ফ্ল্যাঙ্ক (অ্যাটাকিং থার্ডের ডান কিনারে থেকে বল ক্রস করা যার প্রধান কাজ) এবং এমবাপ্পেকে নজরে রেখে সতীর্থদের সহযোগিতা করা। জুভেন্টাসে যোগ দেয়ার আগে সাত মৌসুমে পিএসজিতে কাটিয়েছেন ডি মারিয়া। এমবাপ্পের দুর্বলতা ও শক্তিমত্তা তিনি ভালোই জানেন।

এরপর স্কালোনি খেলিয়েছেন ৪-৩-৩ ছকে। ডি মারিয়া শুরুর একাদশে থাকলে সাধারণত এ পদ্ধতিই অবলম্বন করেন আর্জেন্টিনা কোচ। প্রস্তুতি সেরেছেন ৪-৪-২ ছক দিয়েও। এ ক্ষেত্রে তিনি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে অতিরিক্ত মিডফিল্ডার হিসেবে খেলিয়েছেন। স্কালোনির কৌশল দেখে অন্তত এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ফাইনালে তিনি ডি মারিয়াকে শুরু থেকেই খেলাবেন। পুরো ফিট হিসেবে পেতেই ৩৪ বছর বয়সী তারকাকে সেরে উঠতে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছেন। গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়ার পর মাত্র আট মিনিট খেলেছেন ডি মারিয়া। তিনি ফেরা মানে ফাইনালেও শুরুর একাদশে জায়গা হচ্ছে না লাওতারো মার্তিনেজের।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে নিয়মিত শুরুর একাদশ নিয়েই নামার সম্ভাবনা বেশি কোচ দিদিয়ে দেশমের। তবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসির কথা মাথায় রেখে রক্ষণের শক্তি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারেন তিনি। এক্ষেত্রে শুরুর একাদশে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারেন রাশিয়া আসরে ফ্রান্সকে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেয়া এই কোচ।

ফ্রান্স দলের সহঅধিনায়ক ভারানে, রক্ষণ বিভাগের নেতা। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হ্যামস্ট্রিং চোটে খেলতে পারেননি তিনি। এরপর থেকে ক্রমাগত উন্নতি হয়েছে তার। লিওনেল মেসি এবং জুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার অভিজ্ঞতা ও ঠাণ্ডা মস্তিষ্ক চাবিকাঠি হতে পারে ফরাসিদের জন্য। এদিকে রক্ষণের সঙ্গে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্যও আছে উপেমেকানোর। পাল্ট আক্রমণে যেতে ফ্রান্সকে যেটা বেশ সহায়তা করবে। রক্ষণে নিখুঁত হওয়ার পরিচয় দিয়েছেন তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে।

ম্যাচের শুরুর দিকে হ্যারি কেইনকে দারুণভাবে রুখে দিয়েছিলেন তিনি। একটু এদিক সেদিক হলেই পেনাল্টি পেতে পারত ইংলিশরা। ফাইনালে দায়দ উপেমেকানোর জায়গায় তিনি শুরুর একাদশে রাখতে পারেন ইব্রাহিমা কোনাতেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ভারানে না থাকায় সুযোগ পান কোনাতে এবং দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেন।

তিউনিশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে ফ্রান্স হারলেও নিজের দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করেন কোনাতে। অসুস্থতায় উপেমেকানো ছিটকে গেলে মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে আরেকটি সুযোগ পান কোনাতে। নিজেকে মেলে ধরেন তিনি ওই ম্যাচেও। মরক্কোর দারুণ সব আক্রমণ প্রতিহত করতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ফাইনালে তাকে খেলাতেই পারেন দেশম।

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে করিম বেনজেমা চোটে ছিটকে পড়ায় শুরুর একাদশে সুযোগ পান জিরুড। নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়ে চলেছেন তিনি প্রতিটি ম্যাচে। চলতি বিশ্বকাপেই গড়েছেন ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তি। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো গোলটি ছিল তার। এমবাপ্পের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ফ্রান্স দলের আক্রমণভাগের মূল শক্তি। শেষ চারে মরক্কোর বিপক্ষে নিষ্প্রভ ছিলেন জিরুড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনি জ্বলে উঠবেন, আশায় থাকবে ফরাসিরা।

ফ্রান্স দলের তারকা এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টের শুরুটা ছিল তার দুর্দান্ত। প্রথম ৪ ম্যাচেই পেয়ে যান পাঁচ গোল। বিধ্বংসী গতি, ছোট জায়গায় ড্রিবল করার ক্ষমতা এবং গতিময় শটের জন্য প্রতিপক্ষের ভয়ের কারণ তিনি। ইংল্যান্ড ও মরক্কোর বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ। তবে যে কোনো সময় যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতেন পারে, প্রমাণ দিয়েছেন অনেকবারই। আগামী ২০ ডিসেম্বর তার ২৪তম জন্মদিন। দুদিন আগে বিশ্বকাপ জিতে উপলক্ষটা যে রাঙাতে চাইবেন সময়ের সেরা ফরোয়ার্ডের একজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়