রাস্তাঘাটে ভুতুুরে চিত্র, রাজধানীতে চাপা আতঙ্ক

আগের সংবাদ

ফাঁকা ঢাকায় সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

পরের সংবাদ

‘আদর্শ রক্ষার জন্য সংগ্রাম করছি’ : বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড শুরু

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১০, ২০২২ , ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১০, ২০২২ , ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ

ডেডলাইন ১০ ডিসেম্বর, একাত্তর। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবহুল এই দিনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দিল্লিতে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আদর্শ রক্ষার জন্য আপনারা এবং আমরা সংগ্রাম করছি। রেডিও আকাশবাণী থেকে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতিসংক্রান্ত জাতিসংঘের আহ্বান ভারত প্রত্যাখ্যান করেনি আবার গ্রহণও করেনি। প্রস্তাবটি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। শত্রুরা এক ধর্মীয় যুদ্ধের মিথ্যা ও সর্বনাশা জিকির তুলেছে। বাংলাদেশের মানুষ বেশির ভাগই মুসলমান এবং তারা ইসলামাবাদের সামরিক শাসকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। সব ধর্মের মানুষ সমানভাবেই আমাদের ভাই আর তাই এই মহান আদর্শ রক্ষার জন্য আপনারা ও আমরা যুদ্ধ করছি। যখন বাংলাদেশ সরকার কায়েম হবে তখন বিজয় অর্জন হবে। ভারতে অবস্থানরত ১ কোটি শরণার্থী তখন নিজেদের ভিটায় ফিরে যেতে পারবে।

দৈনিক আনন্দবাজার ও দৈনিক অমৃতবাজারের (১১ ডিসেম্বর ১৯৭১) প্রতিবেদন থেকে আরো জানা যায়, ১০ ডিসেম্বর অবরুদ্ধ ঢাকা শহর থেকে বিদেশি নাগরিকদের সরিয়ে নেয়া বিমান ঢাকায় অবতরণের আগে কলকাতায় অবতরণ করতে হবে বলে ভারত সরকার বিদেশি বিমানগুলোর

ওপর যে নির্দেশনা জারি করেছে তা প্রত্যাহার করতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করে জাতিসংঘ ও ৭টি দেশ। এই দেশগুলো হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এই অনুরোধের জবাবে ভারতীয় সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই নির্দেশনা যদি না মানে ভারতীয় বিমান বাহিনী তাদের বিমানের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারবে না। আরো কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের নিরপেক্ষ দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত সরকারের দেয়া শর্ত একবার মেনে নেয়া হলে এবং বিমানের গতিপথ জানানো হলে আমাদের বিমান বাহিনীকে যথোপযুক্ত নির্দেশ দেয়া যেতে পারে। তবে এজন্য ভারত সরকারকে অবশ্যই শর্ত মেনে জানাতে হবে।

‘টাস্কফোর্স ৭৪’ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র পঞ্চম, একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ড অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সনের নির্দেশের ভিত্তিতে একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর সপ্তম নৌবহরের কয়েকটি জাহাজ নিয়ে ‘টাস্কফোর্স ৭৪’ গঠিত হয়। জাহাজগুলো সিঙ্গাপুরে একত্রিত হয়ে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। সপ্তম নৌবহরে যেসব জাহাজ ছিল এর মধ্যে- ৭৫টি জঙ্গিবিমান বহনকারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ টাস্কফোর্স-৭৪ এর প্রধান যুদ্ধজাহাজ। দুই হাজার মেরিন সৈন্যের ব্যাটালিয়ন ও ২৫টি অ্যাসাল্ট হেলিকপ্টারসহ অ্যাম্ফিভিয়াস (উভচর) অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস ত্রিপোলী, গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস কিং, ইউএসএস ডেকাটুর, ইউএসএস পারসন্স, গান ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বাউসেল (ডিডি-৮৪৫), ইউএসএস ওর‌্যাক (ডিডি-৮৮৬), ইউএসএস ম্যাককিন (ডিডি-৭৮৪), ইউএসএস অ্যান্ডারসন, সামরিক রসদবাহী জাহাজ ও নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন ইউএসএস হ্যালিয়েকালা (এই-২৫)। ১০ ডিসেম্বর সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগরের দিকে অফিশিয়াল যাত্রা শুরু করে মালাক্কা প্রণালীতে অবস্থান নেয়।

বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা : ১০ ডিসেম্বর তারিখটি বাংলার বিষাদময়, বিষণ্ন একটি দিন। কুখ্যাত কসাই রাও ফরমান আলী তার ক্যালেন্ডারে ওই দিনটি লাল কালিতে ঢেকে দেন। পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় সূচনা হয় পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। শান্তিনগরের চামেলীবাগের ভাড়া বাড়ি থেকে প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে আল-বদর বাহিনীর সহযোগিতায় ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি করেন পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগা শাহী। রেডিও পিকিংয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়, ভারত যদি বিশ্বমত উপেক্ষা করে ভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মিত্র হিসেবে পাশে পেয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। তবে ভারতকে চরম শিক্ষা পেতে হবে। চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিপো ফেই বলেন, ভারতের কার্যকলাপে তার স¤প্রসারণবাদী নগ্নরূপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। সমাজতন্ত্রী সাম্রাজ্যবাদীরা নির্লজ্জের মতো ভারতীয় স¤প্রসারণবাদের ত্রাণকর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে বর্বরোচিত কাজ করেছে।

প্রতিরোধ যুদ্ধ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র পঞ্চম, একাদশ, দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ খণ্ড অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটানা বিমান হামলায় চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দর অচল হয়ে পড়ে। কয়েকটা জাহাজে করে পাকসেনারা পালানোর সময় বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ে। একটি জাহাজে নিরপেক্ষ দেশের পতাকা উড়িয়ে হানাদার বাহিনী সিঙ্গাপুরে পালানোর পথে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তবাহিনী দিনাজপুর, রংপুর এবং সৈয়দপুরে হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সব রসদ বন্ধ করে দেয়। এদিন ময়মনসিংহ, নড়াইল, ভোলা, মাদারীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয়।

কেএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়